ভারতীয় পানি আগ্রাসন নিয়ে আরও সতর্ক থাকার কথা জানালেন পানিসম্পদ মন্ত্রী
By নিজস্ব প্রতিবেদক | বেঙ্গল টাইমস
ভারত থেকে আসা পানির প্রবাহ ও সম্ভাব্য পানি আগ্রাসনের বিষয়ে বাংলাদেশকে আরও সতর্ক থাকার কথা জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
একই সঙ্গে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে ফেনীর পরশুরাম উপজেলার ঘাটঘর এলাকায় মুহুরী নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, বাংলাদেশ ভারতের প্রতিবেশী ও বন্ধুপ্রতিম দেশ। দুই দেশের সম্পর্ক কতটা ইতিবাচক ও পারস্পরিক স্বার্থনির্ভর হওয়া উচিত, সেটি ভারতকেও বিবেচনায় নিতে হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারত সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবে।মন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ যাতে কোনো ধরনের আগ্রাসন বা তার ক্ষতিকর প্রভাবের শিকার না হন, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক থাকবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের জনগণও এ বিষয়ে সচেতন থাকবে বলে জানান তিনি।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে থাকবে প্রতিরোধ
সরকারের দায়িত্ব পালনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থানের কথাও তুলে ধরেন পানিসম্পদ মন্ত্রী। দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে দেশে দুর্নীতি ও দুঃশাসনের একটি প্রবণতা তৈরি হয়েছিল। জনগণ বর্তমান সরকারকে দায়িত্ব দেওয়ার পর সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের পাশাপাশি দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলাকে গুরুত্ব
তিনি আরও বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও চ্যালেঞ্জ অব্যাহত থাকবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপ, অনিয়ম বা দুর্নীতি যাতে জায়গা না পায়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার কথাও জানান তিনি।
নিজেকে বৃহত্তর নোয়াখালীর সন্তান উল্লেখ করে এ্যানি বলেন, মুহুরী-কহুয়া প্রকল্পসহ দেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা তার দায়িত্বের অংশ।
প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা বজায় রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্প শেষ করার লক্ষ্য
মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের সুফল তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা, বাঁধ ভেঙে যাওয়া এবং বন্যাজনিত ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমে আসবে।
বৃহত্তর ফেনী-নোয়াখালী অঞ্চলের মানুষ এ প্রকল্পের মাধ্যমে উপকৃত হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।প্রকল্পের আওতায় জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হলে ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দেন পানিসম্পদ মন্ত্রী।
তবে প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হচ্ছে না বলেও জানান তিনি।মন্ত্রী জানান, আগামী মাসে যেকোনো সময়, অথবা মাসের শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফেনী সফরে এসে প্রকল্পটির কাজের উদ্বোধন করতে পারেন। এ সময় তিনি স্থানীয় মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। প্রকল্পের কাজ ২০৩০ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রকল্পে থাকছে বাঁধ ও নদী পুনঃখনন
এর আগে গত ১৬ জুন প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ অনুমোদন দেওয়া হয়।
প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ এবং ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখননের পরিকল্পনা রয়েছে।
পাশাপাশি ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণ করা হবে।
পরবর্তী পর্যায়ে মুহুরী ও কহুয়া নদীতে নতুন বাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি সিলোনিয়া নদীতে বাঁধ নির্মাণ, নদী খনন ও সংস্কারের পরিকল্পনাও রয়েছে।
পরিদর্শনকালে স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা এবং বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ভারতের সঙ্গে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় ন্যায্যতা ও পারস্পরিক সহযোগিতা নিশ্চিত করতে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।মুহুরী-কহুয়া প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ফেনীসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের বন্যা ও জলাবদ্ধতার সমস্যা কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।