এইচএসসি পরীক্ষা শেষে ভোলায় কেন্দ্রে হামলা-ভাঙচুর, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারশেল নিক্ষেপ।
By নিজস্ব প্রতিবেদক, ভোলা | ১১ জুলাই ২০২৬
ভোলার চরফ্যাশনে এইচএসসি পরীক্ষা শেষে একটি কেন্দ্রকে ঘিরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। প্রশ্নপত্র কঠিন হওয়া এবং নকলের সুযোগ না দেওয়াকে কেন্দ্র করে একদল পরীক্ষার্থী কলেজ ক্যাম্পাসে তাণ্ডব চালায় বলে অভিযোগ করেছেন কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।শনিবার (১১ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে চরফ্যাশন উপজেলার ফাতেমা-মতিন মহিলা কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষকরা জানান, দুপুর ১টায় পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর একদল পরীক্ষার্থী কলেজের সামনে জড়ো হয়। পরে তারা আরও লোকজনকে ডেকে এনে বেলা দেড়টার দিকে কলেজে হামলা চালায়। প্রথমে প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ হলে তারা পেছনের ফটক ভেঙে লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়ে।
হামলাকারীরা কলেজের প্রশাসনিক ভবন, অধ্যক্ষের কক্ষ, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ এবং বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষের জানালার কাচ ভাঙচুর করে। এছাড়া অফিস কক্ষের দুটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত যন্ত্র (এসি) ও আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে উত্তরপত্র ছিনিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা করা হয়, তবে দায়িত্বরত শিক্ষকদের বাধায় তা সম্ভব হয়নি।
ইটপাটকেলের আঘাতে কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি শিকদার হুমায়ুন কবির, ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক মিজানুর রহমান, কয়েকজন স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী এবং পথচারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ফাতেমা-মতিন মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও কেন্দ্রসচিব মহিউদ্দিন বাচ্চু বলেন, কেন্দ্রে সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী কঠোরভাবে নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছিল। তার দাবি, প্রশ্নপত্র কঠিন হওয়া এবং প্রশ্ন কমন না পড়ার অভিযোগ তুলে কিছু পরীক্ষার্থী নকলের সুযোগ দাবি করে।
এতে বাধা দেওয়া হলে তারা বহিরাগতদের সঙ্গে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। ঘটনার বিষয়ে প্রশাসন ও শিক্ষা বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে।কেন্দ্রসচিব জানান, ওই কেন্দ্রে চরফ্যাশন সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছিল।
মোট ৯০০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮৮৪ জন উপস্থিত ছিলেন। পরীক্ষা চলাকালে কিছু পরীক্ষার্থী এমসিকিউ ও লিখিত অংশের প্রশ্ন কঠিন হওয়ার অভিযোগ তুলে নকলের সুযোগ দাবি করেন। দায়িত্বরত শিক্ষকরা তা প্রত্যাখ্যান করলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
অন্যদিকে, কয়েকজন পরীক্ষার্থীর অভিযোগ, কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা পরীক্ষার শুরু থেকেই অতিরিক্ত কঠোর আচরণ করছিলেন। এমনকি সময় জানতে চাইলেও কিছু শিক্ষার্থীকে উত্তরপত্র জমা দিতে বিলম্ব করা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
এসব কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয় এবং পরীক্ষা শেষে কয়েকজন শিক্ষার্থী কলেজের জানালার গ্রিল ও কাচে ইট নিক্ষেপ করে।
চরফ্যাশন সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেহেদী হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, উত্তেজিত ছাত্র-জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে। চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, প্রশ্নপত্র কঠিন হওয়াকে কেন্দ্র করে কিছু শিক্ষার্থী এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটিয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।