ভেনেজুয়েলায় স্মরণকালের ভয়াবহ ভূমিকম্প: নিখোঁজ ৭ হাজারের বেশি, মৃতের সংখ্যা লাখ ছাড়ানোর আশঙ্কা
By আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বেঙ্গল টাইমসঢাকা, ২৫ জুন ২০২৬
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭ হাজার ৩৮১ জনকে নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা আশঙ্কা করছেন, নিখোঁজদের একটি বড় অংশ ধসে পড়া ভবন ও স্থাপনার ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে থাকতে পারেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় রাত পৌনে ৩টা পর্যন্ত বিশেষ অনুসন্ধান ওয়েবসাইটে হাজার হাজার নিখোঁজ ব্যক্তির নাম নিবন্ধিত হয়েছে। ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় অনেক পরিবার এখনও তাদের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছে না।
ভেনঅ্যাপ’-এর মাধ্যমে তথ্য দেওয়ার আহ্বান
পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ নাগরিকদের প্রতি জরুরি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি নিখোঁজ ব্যক্তি, ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর এবং অন্যান্য স্থাপনার তথ্য দ্রুত সরকারের জরুরি অ্যাপ্লিকেশন ‘ভেনঅ্যাপ’ (VenApp)-এ জমা দেওয়ার অনুরোধ করেছেন।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নাগরিকদের দেওয়া তথ্য উদ্ধার অভিযানকে আরও কার্যকর করতে সহায়তা করবে এবং দুর্গতদের দ্রুত খুঁজে বের করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা
সবশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বুধবারের এই জোড়া ভূমিকম্পে অন্তত ৩২ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। আহত হয়েছেন কয়েক শতাধিক মানুষ। তবে উদ্ধার অভিযান যত এগোচ্ছে, ততই নতুন নতুন ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সামনে আসছে।
দুর্গত এলাকাগুলোর অনেক স্থানে এখনও উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে পারেনি। ফলে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা সরকারি হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইউএসজিএস-এর ভয়াবহ পূর্বাভাস
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা USGS ভূমিকম্পটির সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগজনক মূল্যায়ন প্রকাশ করেছে।
সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী—
প্রাণহানি ১০ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৪৪ শতাংশ।
- মৃতের সংখ্যা ১ লাখের বেশি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৩০ শতাংশ।
- বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের তীব্রতা, উৎপত্তিস্থল এবং জনবহুল এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে পরিস্থিতি দ্রুত আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি, অবকাঠামো এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপরও পড়তে পারে।
থমকে গেছে জনজীবন
ভূমিকম্পের আঘাতে রাজধানী কারাকাসসহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিমানবন্দর, সড়ক, সেতু এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনাসহ বিভিন্ন অবকাঠামোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যাচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে অসংখ্য মানুষের আর্তনাদ ও উদ্বেগের চিত্র ফুটে উঠছে। অনেক পরিবার ধ্বংসস্তূপের পাশে অবস্থান করে প্রিয়জনদের উদ্ধারের অপেক্ষায় দিন-রাত পার করছে।
এদিকে সেনাবাহিনী, সিভিল ডিফেন্স, ফায়ার সার্ভিস এবং স্বেচ্ছাসেবী উদ্ধারকর্মীরা ধসে পড়া ভবনগুলোর নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে নিরলস অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলা এই উদ্ধার তৎপরতার দিকে এখন তাকিয়ে আছে পুরো বিশ্ব।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, উদ্ধারকাজ শেষ হওয়ার আগে পর্যন্ত হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে না।
ফলে ভেনেজুয়েলা হয়তো সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে।