বাংলাদেশসহ ৫০ দেশের নাগরিকদের জন্য স্থায়ী হলো মার্কিন ভিসা বন্ড, সর্বোচ্চ ফি ২০ হাজার ডলার
By আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বেঙ্গল টাইমস, প্রকাশ: ১ আগস্ট ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসায়িক ও পর্যটন ভিসা (বি-১ ও বি-২) আবেদনকারীদের জন্য চালু থাকা ভিসা বন্ড কর্মসূচিকে স্থায়ী করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর। নতুন এ নীতির আওতায় বাংলাদেশসহ ৫০টি দেশের নাগরিকদের ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত অর্থ বন্ড হিসেবে জমা দিতে হবে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ ভিসা বন্ডের পরিমাণ বাড়িয়ে ২০ হাজার মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
শুক্রবার ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত এক খসড়া বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এক বছরের পর্যালোচনায় কর্মসূচিটি কার্যকর প্রমাণিত হওয়ায় এটি স্থায়ীভাবে চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়ম আগামী সোমবার থেকে কার্যকর হবে। ভবিষ্যতে প্রয়োজনে আরও দেশ এ তালিকায় যুক্ত হতে পারে।
এর আগে পরীক্ষামূলক কর্মসূচির আওতায় ভিসা বন্ডের পরিমাণ ছিল ৫ হাজার, ১০ হাজার এবং সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার। নতুন নীতিতে ৫ হাজার ডলারের বিকল্প বাতিল করে বন্ডের পরিমাণ ১০ হাজার অথবা ২০ হাজার ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। আবেদনকারীর ঝুঁকি মূল্যায়নের ভিত্তিতে কনস্যুলার কর্মকর্তা বন্ডের পরিমাণ নির্ধারণ করবেন।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর বি-১ (ব্যবসায়িক) ও বি-২ (পর্যটন) ভিসা আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকারের আগে নির্ধারিত বন্ড জমা দিতে হবে। ভিসা প্রত্যাখ্যাত হলে পুরো অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। আবার ভিসা পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভিসার সব শর্ত মেনে দেশ ত্যাগ করলে বন্ডের অর্থও ফেরত দেওয়া হবে।
মার্কিন প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান কমানোর লক্ষ্যেই এই নীতি কার্যকর করা হয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ একজন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রায় ১৮ হাজার ডলার ব্যয় হয়।
বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানসহ আফ্রিকার অধিকাংশ দেশ এই স্থায়ী কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। ফলে এসব দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক ও পর্যটন ভিসা প্রক্রিয়ায় ভিসা বন্ড এখন থেকে স্থায়ী শর্ত হিসেবে কার্যকর হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই নীতির ফলে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়মিত ভ্রমণকারী ব্যবসায়ী, পর্যটক, পরিবার এবং ভবিষ্যতে ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকা অনেক আবেদনকারীর জন্য অতিরিক্ত আর্থিক প্রস্তুতির প্রয়োজন হতে পারে। তবে যারা ভিসার সব শর্ত যথাযথভাবে পালন করবেন, তারা নির্ধারিত বন্ডের অর্থ ফেরত পাবেন।