হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published আগস্ট ২২, ২০২৬

বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা স্থগিতের নীতি বাতিল করল মার্কিন আদালত

By বেঙ্গল টাইমস ডেস্ক:

IMG_9186

বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী ভিসা দেওয়ার ওপর আরোপ করা স্থগিতাদেশ বাতিল করেছে দেশটির একটি ফেডারেল আদালত।

একই সঙ্গে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের নেওয়া ওই নীতিকে বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার দেওয়া রায়ে মার্কিন ফেডারেল বিচারক জ্যানেট ভার্গাস বলেন, জাতীয়তার ভিত্তিতে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর আবেদনকারীদের ব্যাপকভাবে অভিবাসী ভিসা থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত আইনসম্মত নয়।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ওই নীতি কার্যকর করা হয়েছিল। এর আওতায় বাংলাদেশ, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশ ছাড়াও আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের মোট ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা প্রদান কার্যত স্থগিত রাখা হয়।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে সে সময় যুক্তি দেওয়া হয়েছিল, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পাওয়ার পর সরকারি সহায়তা, ভাতা বা অন্যান্য জনকল্যাণমূলক সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন।

এ আশঙ্কাকেই নীতিটির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল। তবে আদালত বলেছে, কোনো দেশের নাগরিক হওয়ার বিষয়টিকে একক ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করে ঢালাওভাবে ভিসা স্থগিত করার আইনগত ক্ষমতা পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নেই।

বিচারক ভার্গাস জানুয়ারিতে পররাষ্ট্র দপ্তরের ঘোষিত নীতিটিকে ‘স্পষ্টতই বেআইনি’ বলে অভিহিত করেন।

আদালতের এই রায়ের ফলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়ায় নতুন করে সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রত্যেক আবেদনকারীর যোগ্যতা ও সংশ্লিষ্ট মার্কিন অভিবাসন আইন মেনে চলার বিষয়টি পৃথকভাবে বিবেচিত হবে।

মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে আবেদন যাচাইয়ের পর সংশ্লিষ্ট ভিসা কর্মকর্তারাই সাধারণত সিদ্ধান্ত নেন কোনো আবেদনকারীকে ভিসা দেওয়া হবে কি না। ফলে আদালতের রায়ে দেশভিত্তিক স্থগিতাদেশ বাতিল হলেও ভিসা অনুমোদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিশ্চিত হবে না।

বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্যও আদালতের সিদ্ধান্তটি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারভিত্তিক অভিবাসনসহ বিভিন্ন ধরনের অভিবাসী ভিসার অপেক্ষায় থাকা আবেদনকারীদের জন্য এটি নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি করতে পারে।তবে আদালতের রায়ের পর মার্কিন প্রশাসন এর বিরুদ্ধে আপিল করবে কি না এবং বাস্তবে ভিসা প্রক্রিয়ায় এর প্রভাব কীভাবে কার্যকর হবে, সেটিও এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।