যুক্তরাজ্যে ছাত্রলীগের বর্ণাঢ্য র্যালি ও সমাবেশে আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন
By নিজস্ব প্রতিবেদক | বেঙ্গল টাইমস
বাংলাদেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে যুক্তরাজ্যে বর্ণাঢ্য র্যালি, সমাবেশ ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ । প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আয়োজিত এ কর্মসূচি উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেন যুক্তরাজ্য শাখা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ শেহাব হোসেন জেবিন ও রাসেল আহমেদ খান সুহেল। তাদের নেতৃত্বে শতাধিক নেতাকর্মী ও সমর্থক জাতীয় পতাকা, দলীয় পতাকা এবং বিভিন্ন ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে র্যালিতে অংশগ্রহণ করেন। র্যালিটি যুক্তরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে এবং পরে আওয়ামী লীগ কতৃক আয়োজিত মহাসমাবেশে অংশগ্রহণ করেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ শুধু একটি রাজনৈতিক দল নয়, বরং বাঙালি জাতির অধিকার আদায়, ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত একটি সংগঠন। দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক সংগ্রাম এবং সংকটময় সময়ে আওয়ামী লীগ জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখিয়েছিল এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটেছিল। পরবর্তীকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ, ডিজিটাল রূপান্তর এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।
নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের বাইরে অবস্থান করলেও প্রবাসী আওয়ামী পরিবার ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধ এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে কাজ করে যাচ্ছেন। নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা এবং দেশবিরোধী অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করা প্রবাসী নেতাকর্মীদের দায়িত্ব।
আলোচনা সভায় শেহাব হোসেন জাবিন বলেন, “আওয়ামী লীগের ৭৭ বছরের ইতিহাস সংগ্রাম, ত্যাগ ও অর্জনের ইতিহাস। এই দল বাঙালি জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। আমরা প্রবাসে থেকেও দেশের গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল মূল্যবোধ সমুন্নত রাখতে কাজ করে যাব।”
রাসেল আহমেদ খান সুহেল বলেন, “বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী শুধু একটি দলের জন্মদিন নয়, এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের স্মারক। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উদ্বুদ্ধ করার জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”
সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা নেতৃবৃন্দ, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আত্মোৎসর্গকারী সকল নেতাকর্মীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। এ সময় দলীয় সঙ্গীত, স্লোগান এবং শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন অংশগ্রহণকারীরা।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে বাংলাদেশের শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের উত্তরোত্তর সাফল্য এবং দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন বক্তারা।