হিলি স্থলবন্দরে ফিরল বাণিজ্যের গতি, ধর্মঘট প্রত্যাহারে ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক ঢুকছে
By বেঙ্গল টাইমস ডেস্ক
ভারতীয় ব্যবসায়ীদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট প্রত্যাহারের পর দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আবারও স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য।
ছয় দিন বন্ধ থাকার পর শনিবার দুপুরের পর ভারত থেকে পণ্যবাহী ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ শুরু করে।ধর্মঘট প্রত্যাহারের প্রথম দিনেই ভারত থেকে তিন শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি পণ্য নিয়ে কয়েকটি ট্রাকও ভারতের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে।হিলি কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা প্রিন্স কুমার জানান, শনিবার বেলা সোয়া ১২টার দিকে ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশের মধ্য দিয়ে স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়।
এর আগে গত ৩০ আগস্ট বিভিন্ন দাবিতে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দেন ভারতের ব্যবসায়ীরা। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যত বন্ধ হয়ে যায় এবং স্থলবন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দেয়। তবে এ সময়ে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত স্বাভাবিক ছিল।
বৈঠকের পর ধর্মঘট প্রত্যাহার
ভারতের হিলি এক্সপোর্টার্স অ্যান্ড কাস্টমস ক্লিয়ারিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি বিকাশ মন্ডল জানান, দীর্ঘদিন ধরে হিলি স্থলবন্দরের বিভিন্ন বাণিজ্যিক জটিলতা ও অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধানের দাবি জানিয়ে আসছিলেন ব্যবসায়ীরা।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কার্যকর উদ্যোগ না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত ধর্মঘটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নজরে আসে।
বুধবার বালুরঘাট সফরের সময় তিনি হিলি স্থলবন্দর আধুনিকায়ন এবং বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য সহজ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেন।
এর পরদিন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা প্রশাসন ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে। সেখানে হিলি বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন, বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতার বিষয় তুলে ধরেন ব্যবসায়ীরা।বৈঠকে সমস্যাগুলো সমাধানের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস পাওয়ার পর ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা।
তিন শতাধিক ট্রাক ঢুকেছে বাংলাদেশে
বাংলাদেশের হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মো. নাজমুল হক বলেন, শুক্রবার ভারতীয় হিলি এক্সপোর্টার্স অ্যান্ড কাস্টমস ক্লিয়ারিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাজেশ কুমার আগরওয়ালা পিন্টুর স্বাক্ষর করা একটি চিঠি তারা পেয়েছেন।
চিঠিতে ধর্মঘট প্রত্যাহারের বিষয়টি জানানো হয়।তিনি বলেন, ধর্মঘট প্রত্যাহারের পর শনিবার দুপুরের পর থেকেই বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রথম দিনেই ভারত থেকে তিন শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। পাশাপাশি বাংলাদেশি রপ্তানি পণ্যবাহী ট্রাকও ভারতের দিকে গেছে।
উত্তরাঞ্চলের বাজারেও স্বস্তি
ভারতীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য স্থলবন্দরের তুলনায় হিলি স্থলবন্দর বর্তমানে বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে। দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জটিলতা, বিভিন্ন নিয়মকানুন এবং কথিত হস্তক্ষেপের কারণে অনেক ব্যবসায়ী ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলেও তাদের দাবি।
ব্যবসায়ীরা জানান, হিলি বন্দর দিয়ে বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, সেগুলো সমাধানের জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কাছে একাধিকবার আবেদন করা হয়েছিল।
কিন্তু প্রত্যাশিত সমাধান না পাওয়ায় তারা ধর্মঘটে যেতে বাধ্য হন।এদিকে ছয় দিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকায় উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন বাজারে এর প্রভাব পড়েছিল।
বিশেষ করে ভারতীয় পণ্যের ওপর নির্ভরশীল পাইকারি বাজারগুলোতে সরবরাহে চাপ তৈরি হয়।বগুড়ার রাজা বাজারের সাধারণ সম্পাদক ও আমদানিকারক পরিমল প্রসাদ বলেন, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকায় উত্তরাঞ্চলের বাজারে এর প্রভাব পড়েছিল।
এখন বাণিজ্য কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়ায় ধীরে ধীরে বাজারের পরিস্থিতিও স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা। ধর্মঘট প্রত্যাহারের ফলে আপাতত হিলি স্থলবন্দরে দুই দেশের বাণিজ্যিক কার্যক্রমের অচলাবস্থা কেটেছে। এখন ব্যবসায়ীদের উত্থাপিত সমস্যাগুলোর বাস্তবসম্মত সমাধান কত দ্রুত হয়, সেটিই দেখার বিষয়।