হরমুজ সংকট: বিশ্ববাজারে তেলের দামে মহাবিপর্যয়ের আশঙ্কা’
By আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বেঙ্গল টাইমস | ঢাকা , ১৪ জুন ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া চরম উত্তেজনা এখন বৈশ্বিক অর্থনীতির সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, চলমান সংকটের সমাধান না হলে এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক না রাখলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম অতীতের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে চুরমার করে দিতে পারে।
কেন এত ঝুঁকিতে হরমুজ প্রণালী?
ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে ওমান ও ইরানের মধ্যবর্তী এই সংকীর্ণ জলপথটি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘অয়েল ট্রানজিট চোকপয়েন্ট’।
দৈনিক সরবরাহ: বিশ্বের মোট উৎপাদিত তরল জ্বালানির (অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য) প্রায় ২০ শতাংশই এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হয়।
প্রধান রপ্তানিকারক: সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, ইরাক এবং ইরানের মতো শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো এই রুটের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল।
এশিয়ার ওপর প্রভাব: এই রুট দিয়ে যাওয়া তেলের সিংহভাগেরই গন্তব্য এশিয়ার বড় বড় অর্থনীতি, বিশেষ করে চীন, ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া।দাম কেন রেকর্ড ছাড়াতে পারে?
বিশ্লেষকদের মতে,
হরমুজ প্রণালী যদি সাময়িকভাবেও বন্ধ হয়ে যায়, তবে বাজারে দৈনিক প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেলের ঘাটতি দেখা দেবে। এই বিপুল পরিমাণ ঘাটতি অন্য কোনো বিকল্প রুট বা দেশ দিয়ে রাতারাতি পূরণ করা অসম্ভব।
যদি এই জলপথটি পুরোপুরি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে,
তবে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১৫০ থেকে ২০০ ডলারের রেকর্ড সীমাও ছাড়িয়ে যেতে পারে। যার সরাসরি ধাক্কা লাগবে সারা বিশ্বের মূল্যস্ফীতি ও পরিবহন খাতের ওপর।"
আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশ্লেষক দল।বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে এর প্রভাবতেলের দামের এই সম্ভাব্য লাফ কেবল জ্বালানি খাতের মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর বহুমুখী প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের জীবনেও:
আকাশচুম্বী পরিবহন খরচ: তেলের দাম বাড়লে বিমান, জাহাজ এবং সড়কপথের ভাড়া একলাফে অনেক বেড়ে যাবে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি: পণ্য পরিবহন খরচ বাড়ার কারণে বাজারে খাদ্যসামগ্রীসহ সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে।
মুদ্রাস্ফীতির চাপ:
বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের চাপ মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাবে।সমাধানের পথ কী?
কূটনৈতিক মহলের মতে, হরমুজ প্রণালীতে যেকোনো ধরনের সামরিক সংঘাত বা অবরোধ এড়াতে বিশ্বশক্তিগুলোকে এখনই কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। ওয়াশিংটন থেকে বেইজিং—সব পক্ষই জানে যে, হরমুজের চাবিকাঠি যদি বন্ধ হয়, তবে বিশ্ব অর্থনীতি এক দীর্ঘস্থায়ী মন্দার মুখে পড়বে। তাই এই মুহূর্তে হরমুজ উন্মুক্ত রাখা কেবল মধ্যপ্রাচ্যের বিষয় নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতিকে বাঁচিয়ে রাখার অন্যতম প্রধান শর্ত।