শিক্ষকদের অবসর সুবিধার টাকা পেতে আর দপ্তরে দপ্তরে ঘুরতে হবে না: প্রধানমন্ত্রী
By বেঙ্গল টাইমস ডেস্ক, ১৫ আগস্ট ২০২৬, ঢাকা
বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর সুবিধার অর্থপ্রাপ্তির প্রক্রিয়া আরও সহজ করার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, অবসর ভাতার টাকা পেতে শিক্ষকদের আর এক দপ্তর থেকে আরেক দপ্তরে ঘুরতে হবে না এবং কোনো ধরনের হয়রানি বা মধ্যস্বত্বভোগীর ওপর নির্ভর করতে হবে না।
শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ প্রদান উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অবসর সুবিধার অর্থ সরাসরি শিক্ষকদের ব্যাংক হিসাবে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। অনলাইনভিত্তিক এই ব্যবস্থার ফলে অর্থ পাওয়ার জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা কিংবা বিভিন্ন দপ্তরে গিয়ে যোগাযোগ করার প্রয়োজন কমে আসবে বলে তিনি জানান।
অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের অবসরকালীন সুবিধা পেতে অতীতে যে ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হয়েছে, সে বিষয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শিক্ষকদের বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে তৈরি একটি ভিডিওতে তাঁদের নানা সমস্যার চিত্র উঠে এসেছে।
অতীতে অনেক শিক্ষককে অবসর ও ভাতার অর্থ পেতে ঘুষ দেওয়ার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, বর্তমানে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষকদের কাছে অর্থ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে এই প্রক্রিয়া একদিনে সহজ হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অবসর সুবিধার তহবিলের আর্থিক সংকটের বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট ফান্ডে পর্যাপ্ত অর্থ নেই।
এ কারণে বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষকদের পাওনা অর্থ পরিশোধ করা হচ্ছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, আগের আওয়ামী লীগ সরকারের সময় অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে শিক্ষকদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি বোর্ড দুর্বল হয়ে পড়েছিল।
শিক্ষকদের অবদানের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চাকরি থেকে অবসর নিলেও একজন শিক্ষক তাঁর পরিচয় ও সামাজিক ভূমিকার দিক থেকে শিক্ষকই থাকেন। সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে তাঁদের অবদান সর্বজনস্বীকৃত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধা দ্রুত এবং স্বচ্ছভাবে পৌঁছে দিতে ডিজিটাল ব্যবস্থার ব্যবহার আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এর মাধ্যমে ভোগান্তি কমার পাশাপাশি অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।