হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published আগস্ট ২৬, ২০২৬

গণপতি চক্রবর্তী পরিবার হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন ও দ্রুত বিচারের দাবিতে শাহবাগে মানববন্ধন

By অনলাইন ডেস্ক

IMG_9280

রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েসহ পরিবারের চার সদস্যের হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং দ্রুত বিচারের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে শাহবাগে এ কর্মসূচির আয়োজন করেন রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং ঢাকায় অবস্থানরত রংপুরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

কর্মসূচিতে শিক্ষার্থী ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সচেতন নাগরিক অংশ নেন।মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একটি পরিবারের চার সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে কোনো ধরনের গাফিলতি, প্রভাব কিংবা অসঙ্গতির কারণে যেন প্রকৃত ঘটনা আড়ালে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে হত্যার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তিকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তাঁরা।

আন্দোলনকারীরা তদন্তে উঠে আসা বিভিন্ন প্রশ্নের নিরপেক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধানের ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁদের দাবি, নিহত পরিবারের সদস্য আগামী চক্রবর্তী ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে এক বান্ধবীকে বাসায় বিদ্যুৎ না থাকার বিষয়ে বার্তা পাঠিয়েছিলেন বলে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

অন্যদিকে আসামিদের বক্তব্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডটি মধ্যরাতে সংঘটিত হয়। সময়সংক্রান্ত এই অসঙ্গতি বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত প্রমাণের মাধ্যমে পরিষ্কার করা প্রয়োজন বলে তাঁরা মনে করেন।

ঘটনার রাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকার কারণ এবং পরিবারের বাসার পাশের একটি মন্দিরের সিসিটিভি ক্যামেরা হঠাৎ অকার্যকর হয়ে যাওয়ার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানান তাঁরা।

মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, গত মে মাসে আগামী চক্রবর্তী এক বান্ধবীর কাছে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার বিষয়ে পরামর্শ চেয়েছিলেন বলে জানা গেছে।

তিনি আগে কোনো হুমকি পেয়েছিলেন কি না কিংবা পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো আশঙ্কা ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার। এ ছাড়া পরিবারের সদস্যরা উদ্ধারের আগে প্রায় দুই দিন নিখোঁজ ছিলেন।

ওই সময় তাঁদের প্রতিবেশী, পরিচিতজন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা কী ছিল, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় অনুসন্ধানের দাবি জানান আন্দোলনকারীরা। তদন্তে ফরেনসিক প্রমাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তাঁরা বলেন, হত্যাকাণ্ডের কয়েক দিন আগে গণপতি চক্রবর্তী ব্যাংক থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা তুলেছিলেন বলে তথ্য রয়েছে।

সেই অর্থ কোথায় গেছে, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর ছোট ছেলে প্রিয়মকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়ে থাকলে ওই গামছা থেকে ডিএনএ ও আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করে পরীক্ষা করার দাবি জানান তাঁরা।

ময়নাতদন্তের তথ্যের সঙ্গে যৌন নির্যাতনের আলামত নিয়ে কথিত অসঙ্গতি এবং মৃতদেহের মুখ ঝলসে দেওয়ার বিষয়ে পাওয়া ভিন্ন বক্তব্য নিয়েও তদন্তের দাবি ওঠে মানববন্ধনে।

আন্দোলনকারীদের আশঙ্কা, পরিবারটির সম্পত্তি দখলকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডের কোনো পরিকল্পনা ছিল কি না, কিংবা কোনো প্রভাবশালী আত্মীয় বা ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি এতে জড়িত কি না—এসব বিষয়ও তদন্তে গুরুত্ব পাওয়া উচিত।

বক্তারা বলেন, শুধু অভিযুক্তদের স্বীকারোক্তির ওপর নির্ভর করে এমন একটি গুরুতর হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষ করা উচিত নয়।

সিসিটিভি ফুটেজ, কল রেকর্ড, ব্যাংক লেনদেন, মোবাইল ডেটা এবং অন্যান্য ফরেনসিক ও ডিজিটাল প্রমাণ বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ও নেপথ্যের ইন্ধনদাতাদের শনাক্ত করতে হবে।

তাঁরা আরও বলেন, ন্যায়বিচার কোনো অনুগ্রহ নয়; এটি নিহতদের স্বজন ও সমাজের মানুষের অধিকার।

তাই প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে তদন্তকারী সংস্থাকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও পেশাদারভাবে কাজ করতে হবে।পরে শাহবাগ থেকে রাজু ভাস্কর্য পর্যন্ত মৌন মিছিলের মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ করেন আন্দোলনকারীরা।