হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published জুলাই ৩, ২০২৬

শনিবার শুরু হচ্ছে খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য, চলবে ছয় দিনের আনুষ্ঠানিকতা

By আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বেঙ্গল টাইমস

ba1b0d75-df52-46c0-a2cb-d4242bd7da99

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছয় দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানী তেহরানে শুরু হচ্ছে। তাঁর মৃত্যুর চার মাসেরও বেশি সময় পর আয়োজিত এই কর্মসূচিকে ইরানি কর্তৃপক্ষ ‘শতাব্দীর সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

ইরানি কর্মকর্তাদের ধারণা, শেষকৃত্যানুষ্ঠানে এক কোটি ২০ লাখ থেকে দুই কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে। এ উপলক্ষে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা ও লজিস্টিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

নজিরবিহীন নিরাপত্তা ও লজিস্টিক প্রস্তুতিপুরো আয়োজনের দায়িত্বে রয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর তেহরানভিত্তিক মোহাম্মদ রাসুলুল্লাহ কোর।

শোকাহত মানুষের জন্য স্থাপন করা হয়েছে হাজারো সেবাকেন্দ্র (মাওকিব)। পাশাপাশি ১০ লাখের বেশি মানুষের আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং রাজধানীর কেন্দ্রীয় এলাকাজুড়ে বিশেষ প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে জনসমাগম নির্বিঘ্নে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, কয়েক ডজন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, প্রধানমন্ত্রী, পার্লামেন্টের স্পিকার, মন্ত্রী ও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা এই শেষকৃত্যে অংশ নেবেন।

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ইতোমধ্যে তেহরানে পৌঁছেছেন। এছাড়া প্রায় ৮০০ বিদেশি সাংবাদিক অনুষ্ঠানটি কাভার করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।এবারের শেষকৃত্যের প্রতীক হিসেবে ‘মুষ্টিবদ্ধ হাত’ এবং স্লোগান হিসেবে ‘আমাদের জেগে উঠতেই হবে’ নির্ধারণ করেছে ইরান।

ছয় দিনের কর্মসূচিশনিবার–রবিবার:শনিবার স্থানীয় সময় সকাল ৬টায় ইমাম খোমেনি মোসাল্লায় আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে।

রবিবার বিকেল পর্যন্ত সাধারণ মানুষ সেখানে খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন।

আইআরজিসির কমান্ডার হাসান হাসানজাদেহ জানিয়েছেন, খামেনির কফিন একটি উঁচু মঞ্চে রাখা হবে এবং দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ চলাচল ব্যবস্থা থাকবে, যাতে প্রত্যেকে ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারেন।

মঙ্গলবার: খামেনির মরদেহ ধর্মীয় নগরী কোমে নেওয়া হবে। সেখানে জামকারান মসজিদে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে।

বুধবার: মরদেহ নেওয়া হবে ইরাকের পবিত্র নগরী নাজাফ ও কারবালায়।

বৃহস্পতিবার: পুনরায় ইরানে ফিরিয়ে এনে তাঁর জন্মশহর মাশহাদের ইমাম রেজা মাজারে দাফন সম্পন্ন করা হবে।

দাফনের পর সারা দেশে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হবে।

পাশাপাশি তাঁর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী পর্যন্ত বিভিন্ন স্মরণানুষ্ঠানেরও পরিকল্পনা করেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।

ভূ-রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা

বিশ্লেষকদের মতে, এই শেষকৃত্য শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি ইরানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক আয়োজনও। এর মাধ্যমে জাতীয় ঐক্যের বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি খামেনি-পরবর্তী নেতৃত্বের প্রতি জনসমর্থন আরও সুদৃঢ় করার চেষ্টা করা হতে পারে।তবে শেষকৃত্যকে ঘিরে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখনো আলোচনায় রয়েছে। প্রথমত, মোজতবা খামেনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন কি না।

দ্বিতীয়ত, জানাজার নামাজে কে ইমামতি করবেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই দুটি সিদ্ধান্তই ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা বহন করতে পারে।