এসএসসি-সমমানে এবার ফেল ৬ লাখ ৯০ হাজার, এক বছরে বেড়েছে ১৫ শতাংশ
By নিজস্ব প্রতিবেদক | বেঙ্গল টাইমস, প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো বড় ধরনের অবনতির চিত্র দেখা গেছে। এবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে অকৃতকার্য হয়েছে প্রায় ৬ লাখ ৯১ হাজার।
গত বছরের তুলনায় এবার ফেল করা পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১৫ শতাংশ।চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন।
ফলে অকৃতকার্য হয়েছে ৬ লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ জন। সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। পরে সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ফলাফলের বিস্তারিত পরিসংখ্যান তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
গত বছরের তুলনায় বেড়েছে ফেল
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ১৯ লাখ ৪ হাজার ৮৬ জন।
তাদের মধ্যে পাস করেছিল ১৩ লাখ ৩ হাজার ৪২৬ জন। সে বছর অকৃতকার্য হয়েছিল ৬ লাখ ৬৬০ জন শিক্ষার্থী।
এক বছরের ব্যবধানে পরীক্ষার্থী সংখ্যা কিছুটা কমলেও ফেল করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
গত বছরের ৬ লাখ ৬০ হাজারের তুলনায় এবার অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ জনে।
সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ফেল ৫ লাখের বেশি
দেশের নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায় এবার অকৃতকার্য হয়েছে ৫ লাখ ৪ হাজার ৯২৯ জন।
এই ধারার পরীক্ষায় মোট ১৪ লাখ ৪ হাজার ৫৩৯ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে পাস করেছে ৮ লাখ ৯৯ হাজার ৬১০ জন।
অর্থাৎ সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনেই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক পরীক্ষার্থী এবার পাস করতে পারেনি।
দাখিলে ফেল ১ লাখ ৩২ হাজার
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত দাখিল পরীক্ষাতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে।
এবার দাখিল পরীক্ষায় মোট ২ লাখ ৯৬ হাজার ৯৮২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৭৯৭ জন। ফলে ফেল করেছে ১ লাখ ৩২ হাজার ১৮৫ জন।
কারিগরি বোর্ডেও বড় সংখ্যায় অকৃতকার্য
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি ও দাখিল ভোকেশনাল পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ২৭ হাজার ৯৬৪ জন শিক্ষার্থী।
এর মধ্যে ৭৪ হাজার ৪৭০ জন উত্তীর্ণ হলেও ৫৩ হাজার ৪৯৪ জন পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে।
১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার
এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সব শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ।
সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ বছরের মধ্যে এটিই সর্বনিম্ন পাসের হার।
ফলাফলের এই চিত্র শিক্ষার্থীদের একাংশের প্রস্তুতি, শিক্ষাব্যবস্থার মান, পরীক্ষার মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় তাদের পরবর্তী শিক্ষাজীবন নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
যারা এক বা একাধিক বিষয়ে ফেল করেছে, তাদের পরবর্তী সুযোগ ও শিক্ষাজীবন কীভাবে এগোবে—এ বিষয়েও অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আগ্রহ রয়েছে।
শিক্ষাবিদদের মতে, শুধু পাসের হার বাড়ানো নয়, শিক্ষার্থীরা যে বিষয়গুলোতে দুর্বল হচ্ছে সেগুলো চিহ্নিত করে শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমিয়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি ও শেখার পরিবেশ আরও কার্যকর করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
চলতি বছরের ফলাফল তাই শুধু পাস-ফেলের পরিসংখ্যান নয়; দেশের মাধ্যমিক শিক্ষা
ব্যবস্থার সামগ্রিক মান ও কার্যকারিতা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে।