"দেশ বাঁচানোর শ্লোগান শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন"।প্রত্যাবর্তন দিবসে একটি আশার আলো -
By অধ্যাপক ড তৌহিদা রশীদ কো কনভেনর, নীল দল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
রবিবার, ১৭ ই মে, ২০২৬
"দেশ বাঁচানোর শ্লোগান শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন"।প্রত্যাবর্তন দিবসে একটি আশার আলো -
বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা"র ৪৬ তম ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। ১৯৮১ সালের ১৭ মে, দিনটিও ছিল রবিবার। সেদিন ঘণ্টায় ৬৫ মাইল বেগে কালবৈশাখী ঝড় হচ্ছিল। বৈরী আবহাওয়া, বৈরী পরিস্থিতিতেও মানুষের গতি ঠেকানো যায়নি।
এই দিনটি শুধু একটি ব্যক্তির স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিন নয়; এটি একটি বিপর্যস্ত জাতির নতুন করে বাঁচার আশায় বুক বাঁধার দিন।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এটি ছিল জাতির ইতিহাসের সবচেয়ে কলঙ্কিত অধ্যায়। সে সময় শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা জার্মানিতে অবস্থান করায় প্রাণে বেঁচে যান। পরবর্তী ছয় বছর তাঁরা ছিলেন রাজনৈতিক আশ্রয়ে—প্রথমে জার্মানি, পরে ভারতে।
দেশে তখন সামরিক শাসন জারি, বাক-স্বাধীনতা স্তব্ধ, গণতন্ত্রকে বন্দী করে রাখা হয়েছে বন্দুকের নলের সামনে। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বশূন্য ও বিপর্যস্ত। ঠিক এই প্রেক্ষাপটে ১৯৮১ সালের ফেব্রুয়ারিতে আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলে শেখ হাসিনাকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়।
১৭ মে ১৯৮১, শেখ হাসিনা দিল্লি থেকে বাংলাদেশে ফেরেন। তাঁকে বহনকারী বিমান যখন ঢাকায় অবতরণ করে কুর্মিটোলা বিমানবন্দরে। চোখে জল, হাতে ফুল, কণ্ঠে স্লোগান—"হাসিনা ফিরে এসো, বাংলা তোমায় চায়।"
নেত্রীর আবেগময় কন্ঠে বলেন:
"আমি শেখ মুজিবের কন্যা হিসেবে নয়, আপনাদের কর্মী হিসেবে দেশে ফিরেছি।"
সেদিন তাঁর চোখে ছিল শোক, বুকে ছিল প্রতিজ্ঞা, এবং কণ্ঠে ছিল দৃঢ়তা। মানুষের ভালোবাসা তাঁকে আশ্বস্ত করেছিল, তাঁর পথচলা সঠিক এবং জরুরি।
একটি সাক্ষাৎকারের আলোকে
১৯৮১ সালের ১৮ মে, বিবিসি ও এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন
"আমি গণতন্ত্রের জন্য, মানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য ফিরে এসেছি। আমি জানি সামনে অনেক বাধা, কিন্তু আমি ভয় পাই না।"
এই সাহসী উচ্চারণই তাঁকে সময়ের সাহসী নেতায় রূপান্তর করে এবং বাংলাদেশকে এক অনন্য উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।
আজ ৪৬ তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসটিও রবিবার, আজকের দিনটি আমাদের কাছে আবারও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সালের ৫ আগস্ট জঙ্গী উত্থানের মধ্য দিয়ে আবারও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। জঙ্গীদের পরিকল্পনা ছিল ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু পরিবারের বেঁচে যাওয়া দুই কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা কে হত্যা করে আওয়ামী লীগকে হত্যার মাধ্যমে দেশকে পূর্ব পাকিস্তানের নিকট হস্তান্তর করা। মহান স্রষ্টার পরিকল্পনার কাছে জঙ্গীদের পরিকল্পনা আবারও ব্যর্থ হয়।
৫ আগস্ট সেদিন প্রতিবেশী দেশ ভারত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কে এবং বঙ্গবন্ধুর আরেক কন্যা শেখ রেহানা কে রাজকীয় মর্যাদার আশ্রয় দেন এবং জীবনের নিরাপত্তা প্রদান করেছে বিধায় দেশবাসী বন্ধু প্রতিম দেশ ভারতের কাছে আবারও কৃতজ্ঞ।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের জঙ্গী হামলার পর থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নামে চলেছে জামাতের উত্থান ঠিক যেমনটি ঘটেছিলো ১৯৭৯ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাধ্যমে।
ইউনূস সরকারের দেশ বিক্রির পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চূড়ান্ত রূপ দেয় ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে। অতঃপর ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ তারিখের নির্বাচন যা মূলত সংগঠিত হয় ১১ ফেব্রুয়ারী সন্ধ্যায়। সান্ধ্যকালীন নির্বাচনে বিএনপি- জামাত আসন ভাগাভাগি করে ক্ষমতায় বসে
এবং ইউনূস গং এর করে যাওয়া দাসত্ব চুক্তির মাধ্যমেই দেশ পরিচালনার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। ফলশ্রুতিতে দেশ আজ ধ্বংস প্রায়। তেলের অভাব, মূল্য বৃদ্ধি, বিদ্যুতের অভাবে জনগণসহ কৃষকের দুর্ভোগ, আসন্ন দুর্ভিক্ষ, টিকার অভাবে হামে আক্রান্ত শতশত শিশু হত্যা, প্রতিদিন আওয়ামী লীগ বা ছাত্র লীগ নামে মানুষ হত্যা নিত্য নৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অসহনীয় নির্যাতন থেকে মুক্তি পেতেবাংলাদেশের জনগণ আবার শেখ হাসিনা কেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায়।
জনগণ মনে করে রবাংলাদেশ শেখ হাসিনার কাছেই নিরাপদ। তাই এই দিনে জনগণের প্রত্যাশা জননেত্রী শেখ হাসিনা দ্রুত বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করবেন। আমরা সমগ্র দেশবাসী দেশের স্বাধীনতা রক্ষা, জনগণের অধিকার রক্ষার জন্য আবার নেত্রীর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায়।
জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু। জয়তু শেখ হাসিনা।