হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published আগস্ট ১৩, ২০২৬

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়েই দেশে ফিরলেন নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেউবা।

By আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বেঙ্গল টাইমস, ১৩ আগস্ট ২০২৬

IMG_8940

দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি থাকার মধ্যেই নেপালে ফিরেছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও নেপালি কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা শের বাহাদুর দেউবা।

বিদেশে চিকিৎসা শেষে প্রায় ছয় মাস পর বৃহস্পতিবার তিনি কাঠমান্ডুতে ফেরেন।দেউবার প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে তার বিপুলসংখ্যক সমর্থক জড়ো হন। তারা সড়কের পাশে অবস্থান নিয়ে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।

বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় দেউবাও হাত নেড়ে সমর্থকদের অভিবাদনের জবাব দেন।৮০ বছর বয়সী দেউবার বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগে গত এপ্রিল মাসে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে নেপালের পুলিশ।

অভিযোগগুলো অবশ্য শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছেন তিনি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে পাঁচবার নেপালের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন দেউবা।গত ফেব্রুয়ারিতে চিকিৎসার জন্য দেশ ছাড়ার পর আর নেপালে ফেরেননি তিনি। এর মধ্যে তরুণদের নেতৃত্বে ব্যাপক আন্দোলন, সরকারের পতন এবং পরবর্তী নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নেপালের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে বড় পরিবর্তন আসে।

নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পুরোনো রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ জোরদার করা হয়েছে।

দেউবার সমর্থক গীতা চৌধুরী বলেন, দেউবা তাদের কাছে শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নন, বরং অভিভাবকের মতো। তার ভাষ্য, দেশ ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দেউবার ভূমিকার জন্য সমর্থকেরা তার প্রতি কৃতজ্ঞ।

নেপাল পুলিশের মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফলে জানিয়েছেন, দেউবার বিরুদ্ধে চলমান মামলা ও গ্রেপ্তারের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত অর্থপাচার তদন্ত বিভাগের এখতিয়ারে।

তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশে ফেরার পর তাকে বিমানবন্দর ও চলাচলের পথে নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে। দেউবার স্ত্রী এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরজু রানা দেউবার বিরুদ্ধেও একই ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তরুণদের আন্দোলনের পর নেপালের রাজনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এই তদন্ত ও মামলা সামনে আসে। নেপালের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির পেছনে ২০২৫ সালের তরুণদের আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ওই আন্দোলন দ্রুত দুর্নীতি, বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে দীর্ঘদিনের অসন্তোষে রূপ নেয়।

একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা সরকারি বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা ও অগ্নিসংযোগ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং সরকারের পতন ঘটে। বিক্ষোভের সময় দেউবার বাসভবনও হামলার শিকার হয়।

তার ও তার স্ত্রীর ওপর হামলার কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

পরবর্তী সময়ে দেউবার বাসভবন ও অন্যান্য সম্পত্তি থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ উদ্ধারের দাবি ওঠে। তবে তদন্ত কমিশনের কাছে দেওয়া বক্তব্যে দেউবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসব ভিডিওকে ভুয়া বলে দাবি করেছেন।

তার অভিযোগ, পুরো ঘটনাটি একটি ষড়যন্ত্রের অংশ; যদিও এর পেছনে কারা রয়েছে, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।

তদন্ত কমিশন দেউবার বাসভবন ও অন্যান্য সম্পত্তি থেকে কথিত অর্থ উদ্ধারের বিষয়টি আরও খতিয়ে দেখার সুপারিশ করেছে।এদিকে শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে নেপালি কংগ্রেসের তিন দিনব্যাপী সম্মেলন।

সেখানে দেউবার অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। ফলে দেশে তার প্রত্যাবর্তনের পাশাপাশি দলীয় রাজনীতিতেও তার ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।