দেশে ফিরে আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই অব্যাহত রাখবেন শেখ হাসিনা।
By স্টাফ রিপোর্টার | ঢাকা, ২৪ মে ২০২৬
ঢাকা: ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে অবস্থান করছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশি বিভিন্ন প্রভাবশালী গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, দেশে ফিরে আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই অব্যাহত রাখবেন এবং জনগণের অধিকার ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে নিজের অবস্থান থেকে সরে আসবেন না।
শেখ হাসিনা তাঁর সাক্ষাৎকারগুলোতে দাবি করেন, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন ছিল একটি “পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র” এবং এর পেছনে দেশি-বিদেশি নানা শক্তির ভূমিকা রয়েছে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার পথে এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। তবে জনগণের শক্তির ওপর তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা বর্তমানে দিল্লিতে অবস্থান করলেও নিয়মিতভাবে দলীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। তারা মনে করছেন, উপযুক্ত সময়েই তিনি দেশে ফিরে সক্রিয় রাজনৈতিক ভূমিকা পালন করবেন।
এদিকে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বলে দাবি করেছেন দলটির নেতারা। তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক অস্থিরতা, সহিংসতা ও প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাবোধ কমে গেছে। একই সঙ্গে বাজার ব্যবস্থাপনা, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, বৈদেশিক বিনিয়োগে স্থবিরতা এবং কর্মসংস্থানের সংকট দেশের অর্থনীতিকে চাপে ফেলেছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।
বিদেশি সংবাদমাধ্যমগুলোতেও বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন বিশ্লেষণ প্রকাশিত হচ্ছে। এসব প্রতিবেদনে রাজনৈতিক বিভাজন, গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক পুনর্গঠন, মাঠের রাজনীতি এবং আগামী জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে এই ইস্যু গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন তারা।