হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published জুন ১৬, ২০২৬

উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে তীব্র পানিসংকট, কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

By নিজস্ব প্রতিবেদক | বেঙ্গল টাইমস, রাজশাহী-নওগাঁ-চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ১৬ জুন ২০২৬

IMG_7092

বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বরেন্দ্র অঞ্চলে পানিসংকট দিন দিন তীব্র আকার ধারণ করছে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমাগত নিচে নেমে যাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং দীর্ঘদিনের অতিরিক্ত পানি উত্তোলনের ফলে কৃষি উৎপাদন ও জনজীবন মারাত্মক চাপে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে দেশের অন্যতম প্রধান খাদ্য উৎপাদনকারী এই অঞ্চল বড় ধরনের কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকটের মুখে পড়তে পারে।  

রাজশাহী, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোর জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় অনেক গভীর নলকূপে আগের মতো পানি উঠছে না। কৃষকদের অভিযোগ, কয়েক বছর আগেও যে গভীরতায় পানি পাওয়া যেত, এখন তার চেয়ে অনেক নিচে পাইপ বসিয়েও পর্যাপ্ত পানি মিলছে না। ফলে সেচ ব্যয় বেড়েছে, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ফসলের ফলন কমে যাচ্ছে।  

সাম্প্রতিক গবেষণা ও মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, বরেন্দ্র অঞ্চলের ৮০ শতাংশেরও বেশি এলাকা গুরুতর পানি-চাপের মধ্যে রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ২০২৫ সালে প্রায় ৫ হাজার গ্রামের ভূগর্ভস্থ পানি সেচকাজে ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। যদিও কৃষকদের চাপে পরে তা সাময়িকভাবে শিথিল করা হয়, তবে দীর্ঘমেয়াদে সংকট সমাধানের পথ এখনও স্পষ্ট নয়।  

কৃষকদের ভাষ্য, সেচের পানির মূল্য বেড়ে যাওয়ায় চাষাবাদ অলাভজনক হয়ে উঠছে। অনেকেই ধান চাষ কমিয়ে ভুট্টা, ডাল, সরিষা ও অন্যান্য কম পানি-নির্ভর ফসলের দিকে ঝুঁকছেন। তবুও পানির অনিশ্চয়তা তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।  

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টিপাতের ধরণ বদলে যাচ্ছে এবং খরার প্রবণতা বাড়ছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। তারা বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, পুকুর ও জলাধার পুনঃখনন, আধুনিক সাশ্রয়ী সেচব্যবস্থা এবং কম পানি-নির্ভর কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণের ওপর জোর দিচ্ছেন।  

পানি উন্নয়ন ও কৃষি বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আগামী বছরগুলোতে লাখ লাখ হেক্টর কৃষিজমি আবাদহীন হয়ে পড়তে পারে। এতে খাদ্য উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও খাদ্য নিরাপত্তার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। 

উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষকরা এখন বৃষ্টির অপেক্ষায় দিন গুনছেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু মৌসুমি বৃষ্টির ওপর নির্ভর করে নয়, টেকসই পানি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি ও জনজীবন রক্ষায় এখনই সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।