তীব্র গ্যাস সংকটে আরও দীর্ঘ হচ্ছে সিএনজি স্টেশনের গাড়ির সারি
By বেঙ্গল টাইমস ডেস্ক, ঢাকা | ১৭ আগস্ট ২০২৬
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গ্যাস সরবরাহের সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় সোমবার সকাল থেকেই বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও প্রয়োজনীয় পরিমাণ গ্যাস না পাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন চালক, যাত্রী ও ব্যক্তিগত গাড়ির মালিকরা।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার সিএনজি স্টেশনে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, কোথাও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ, আবার কোথাও অত্যন্ত কম চাপের কারণে সীমিত পরিমাণে গ্যাস দেওয়া হচ্ছে। ফলে একটি গাড়িতে গ্যাস নিতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি সময় লাগছে। এতে স্টেশনগুলোর সামনে তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট ও অপেক্ষমাণ গাড়ির সারি।
চালকদের অভিযোগ, একাধিক স্টেশনে ঘুরেও গ্যাসের সন্ধান মিলছে না। যেসব স্টেশনে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে, সেখানেও দীর্ঘ অপেক্ষার পর সীমিত পরিমাণে গ্যাস দেওয়া হচ্ছে।
গত কয়েকদিনে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় এমন পরিস্থিতির কারণে অনেক চালককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্টেশনে অপেক্ষা করতে হয়েছে।
গ্যাসের সংকট সরাসরি আঘাত করছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রাইড-শেয়ারিং খাতের কর্মীদের আয়ে। চালকদের ভাষ্য, দিনের উল্লেখযোগ্য সময় যদি গ্যাসের লাইনে দাঁড়িয়েই কেটে যায়, তাহলে রাস্তায় গাড়ি চালানোর সুযোগ কমে যায়।
এতে দৈনিক আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাচ্ছে এবং পরিবার চালাতে তাদের বাড়তি চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে।
শুধু ঢাকা নয়, দেশের অন্যান্য এলাকাতেও একই ধরনের সংকটের খবর পাওয়া যাচ্ছে। নারায়ণগঞ্জে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় ৩৩টি সিএনজি স্টেশনের মধ্যে মাত্র তিনটি স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ চালু থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। ফলে সেখানে চালকদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
চট্টগ্রামেও সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় সিএনজি স্টেশন, শিল্পকারখানা ও বাসাবাড়িতে সংকট দেখা দিয়েছে।
মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনাল থেকে সরবরাহ কমে যাওয়াকে সেখানে গ্যাসের চাপ কমার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতীয় পর্যায়েও গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুটের বিপরীতে সরবরাহ ২ হাজার ৩৮০ থেকে ২ হাজার ৪৩০ মিলিয়ন ঘনফুটের মধ্যে থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে সংকট দ্রুত কাটার সম্ভাবনা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। গ্যাস সংকটের প্রভাব শুধু পরিবহনেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। গ্যাসের ঘাটতির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও চাপ তৈরি হচ্ছে এবং শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য সরকারও সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ জোরদার করেছে।
এ অবস্থায় দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন চালক ও ভোক্তারা। তাদের মতে, দীর্ঘদিন এভাবে চলতে থাকলে পরিবহন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচল ও জীবনযাত্রায় আরও বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে।