ইউক্রেনে বড় ধরনের সামরিক বাড়ানোর প্রস্তুতি রাশিয়ার, পারমাণবিক হামলার শঙ্কার কথা জানাল আঙ্কারা
By আন্তর্জাতিক ডেস্ক, প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬
দীর্ঘদিন ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ আরও ভয়াবহ মোড় নেওয়ার পথে রয়েছে। ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধ আরও তীব্র করতে নতুন করে প্রায় ৫ লাখ সেনা মাঠে নামানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে মস্কো। এর পাশাপাশি, চলমান এই সংঘাতে রাশিয়া শেষ অস্ত্র হিসেবে পারমাণবিক হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে তুরস্ক।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সম্প্রতি জানিয়েছেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুদ্ধ থামানোর কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছেন না; বরং আগামী ২১ সেপ্টেম্বর রাশিয়ার সংসদীয় নির্বাচনের পরপরই নতুন করে বিশাল সেনা সমাবেশের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেন তিনি। কিয়েভের আশঙ্কা, এই বিপুল পরিমাণ সেনাকে একত্রিত করে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে আরও বড় পরিসরে সর্বাত্মক আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে রুশ বাহিনী।
এদিকে, রাশিয়ার অভ্যন্তরে ইউক্রেনের সাম্প্রতিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাত্রা ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। রাশিয়ার তাতারস্তান অঞ্চলে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় প্রাণহানির ঘটনা এবং দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি রক্তক্ষয়ী হামলায় যুদ্ধ পরিস্থিতি এখন চরম উত্তপ্ত।
প্রেক্ষাপটে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সতর্ক করে বলেছেন, রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডে ইউক্রেনের সামরিক চাপ যেভাবে বাড়ছে, তাতে ক্রেমলিন তাদের ‘শেষ বিকল্প’ বা পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের কথা ভাবতে বাধ্য হতে পারে। তিনি জানান, এই স্পর্শকাতর বিষয়টি নিয়ে পশ্চিমা অংশীদারদের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে এবং পরিস্থিতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ দিকে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পুতিনের নতুন সেনা সমাবেশ এবং পারমাণবিক হামলার এই সম্ভাব্য হুঁশিয়ারি ইউক্রেন সংকটকে কেবল দীর্ঘায়িতই করবে না, বরং পুরো বিশ্বকে এক বড় ধরনের পরমাণু যুদ্ধের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিতে পারে।