হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published আগস্ট ১৯, ২০২৬

বগুড়ায় স্টেশন মাস্টারসহ রেল কর্মকর্তাদের ওপর হামলা, অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ সোনাতলা স্টেশন

By ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি, বেঙ্গল টাইমস:

4e2cb702-7b46-41ba-94d1-8fb3a0d5cec2

বগুড়ার সোনাতলা রেলওয়ে স্টেশনে কথিত অবৈধ দখলের তথ্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর জেরে স্টেশন মাস্টারসহ রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় দুই স্টেশন মাস্টারসহ অন্তত সাতজন রেলকর্মী আহত হয়েছেন। নিরাপত্তাজনিত শঙ্কায় সোনাতলা রেলওয়ে স্টেশনের নিয়মিত কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য ‘ক্লোজড ডাউন’ ঘোষণা করেছে রেলওয়ের লালমনিরহাট বিভাগীয় সদর দপ্তর।

স্থানীয় সূত্র ও রেলকর্মীদের অভিযোগ অনুযায়ী, সোনাতলা রেলস্টেশনসংলগ্ন হরিজন পাড়ার দুর্গা মন্দির ও সড়কের পশ্চিম পাশে রেলওয়ের জায়গায় কোনো ধরনের বৈধ অনুমতি বা ছাড়পত্র ছাড়াই গর্ত খুঁড়ে পাবলিক টয়লেট ও দোকান নির্মাণের উদ্যোগ নেন কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি।

বিষয়টি নজরে আসার পর সোনাতলা স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্টেশন মাস্টার রবিউল ইসলাম রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বগুড়া জিআরপি (সরকারি রেলওয়ে পুলিশ) ও আরএনবি (রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী) কার্যালয়ে লিখিতভাবে বিষয়টি জানান।

পরে জিআরপি ও আরএনবির সদস্যরা যৌথভাবে ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে নির্মাণাধীন স্থাপনার খুঁটি ও পাইলিং ভেঙে দেন।

রেলকর্মীদের অভিযোগ, পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর ক্ষুব্ধ হয়ে একটি দল সোনাতলা স্টেশনে হামলা চালায়।

স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা হিসেবে পরিচিত ‘কৌটো বাবু’র নেতৃত্বে ২০ থেকে ৩০ জনের একটি সশস্ত্র দল স্টেশন মাস্টারের কক্ষে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এরপর সেখানে দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালানো হয়। একই সঙ্গে স্টেশনের কম্পিউটার, আসবাবপত্র ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সরঞ্জাম ভাঙচুর করা হয়।ঘটনার ছবি তোলার চেষ্টা করায় আইডব্লিউ (I&W) বিভাগের এক কর্মচারীর মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে তাকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন রেলকর্মীরা।

হামলায় আহত ও লাঞ্ছিতদের মধ্যে রয়েছেন স্টেশন মাস্টার রবিউল ইসলাম ও আব্দুল মাজেদ, পয়েন্টসম্যান আব্দুর রহমান ও সাজ্জাদুর রহমান, বুকিং সহকারী মাসুম পারভেজ, পোর্টার দুলাল হোসেন এবং আইডব্লিউ কর্মচারী শামীম হোসেন।

স্টেশনটির কার্যক্রম ‘ক্লোজড ডাউন’ থাকায় আপাতত সেখানে টিকিট বিক্রি, ক্রসিং ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য দাপ্তরিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

তবে রেলপথে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে নির্ধারিত ট্রেনগুলো যথারীতি সোনাতলা স্টেশনে থামছে এবং ছেড়ে যাচ্ছে।

ঘটনার পর স্টেশন ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন রেলকর্মী ও স্থানীয়রা।