হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬

সারাদেশে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান, প্রস্তুতি নিচ্ছে RAB

By খুলনা প্রতিনিধি | বেঙ্গল টাইমস

IMG_9502

দেশজুড়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে র‌্যাবের নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান শুরু হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাহিনীটির মহাপরিচালক মো. আহসান হাবীব পলাশ।

২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের দায়িত্ব র‌্যাবকে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে র‌্যাব-৬-এর খুলনা সদর দপ্তরে সুন্দরবনের জলদস্যুদের আত্মসমর্পণ ও অস্ত্র জমা দেওয়ার বিষয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান র‌্যাব মহাপরিচালক।

তিনি বলেন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে অভিযানসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হতে পারে। এ কাজে সহায়তাকারীদের উৎসাহিত করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পুরস্কার ঘোষণার কথাও জানিয়েছেন বলে জানান তিনি।

He also said Home Minister Salahuddin Ahmed has announced a reward for information leading to the recovery of illegal weapons.

তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখার পাশাপাশি তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন র‌্যাব মহাপরিচালক।

সুন্দরবনে ৫৯ জলদস্যুর আত্মসমর্পণ

প্রেস ব্রিফিংয়ে সুন্দরবনের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়েও তথ্য তুলে ধরে র‌্যাব। বাহিনীটি জানায়, গত সোমবার সুন্দরবনের পাঁচটি জলদস্যু বাহিনীর ৫২ সদস্য আত্মসমর্পণ করেন।

একই দিন রাতে আরও সাতজন আত্মসমর্পণ করায় মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৯ জনে।আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ১৬ জন, আনারুল বাহিনীর ১৩ জন, আফজাল ওরফে দুলাভাই বাহিনীর ১৫ জন, আফতাব বাহিনীর আটজন এবং মিজান বাহিনীর সাতজন রয়েছেন।

আত্মসমর্পণের সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানায় র‌্যাব। এর মধ্যে চারটি শটগান, ৪৭টি ওয়ান শুটারগান, চারটি পাইপগান, তিনটি এয়ারগান এবং একটি .২২ বোর রাইফেল রয়েছে।

এছাড়া সাতটি ওয়াকিটকি, ৫৪১ রাউন্ড তাজা গুলি ও ১৪টি খালি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।

৩১৮ জলদস্যুর আত্মসমর্পণ, ফের অপরাধে ৩০

র‌্যাব মহাপরিচালক জানান, এ পর্যন্ত সুন্দরবনের মোট ৩১৮ জন জলদস্যু আত্মসমর্পণ করেছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৩০ জন পরবর্তী সময়ে আবার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন।

তার ভাষ্য, সামাজিক চাপ, রাজনৈতিক প্রভাব, সচেতনতার ঘাটতি, স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অনাগ্রহ এবং হয়রানির আশঙ্কাসহ বিভিন্ন কারণে কেউ কেউ পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন।

তবে মোট আত্মসমর্পণকারীর তুলনায় পুনরায় অপরাধে জড়ানোর সংখ্যা খুব বেশি নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বর্তমানে সুন্দরবনে চার থেকে পাঁচটি জলদস্যু বাহিনী সক্রিয় রয়েছে বলেও জানান র‌্যাব মহাপরিচালক। এসব বাহিনীর সদস্যদের আত্মসমর্পণের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।

পুনর্বাসনে নতুন উদ্যোগ

আত্মসমর্পণ করা জলদস্যুদের পুনর্বাসনে আগের তুলনায় আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ চলছে বলে জানিয়েছেন মো. আহসান হাবীব পলাশ।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে।

আত্মসমর্পণকারীদের বিরুদ্ধে অপ্রয়োজনীয় মামলা বা হয়রানির অভিযোগও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণ ছাড়া কাউকে আটক বা মামলায় জড়ানো উচিত নয়—এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক করা হয়েছে।

সুন্দরবনে র‌্যাব ব্যাটালিয়নের প্রস্তাব

সুন্দরবনের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে সেখানে র‌্যাবের একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যাটালিয়ন স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন র‌্যাব মহাপরিচালক।

বর্তমানে সুন্দরবন এলাকায় কোস্টগার্ডের একটি ক্যাম্প রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা চাইলে র‌্যাব ব্যাটালিয়ন স্থাপনের জন্য সরকারের কাছে আবেদন করতে পারেন বলেও জানান তিনি।

সুন্দরবনকে জলদস্যুমুক্ত রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে বলে স্পষ্ট করেছেন র‌্যাব মহাপরিচালক।