হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published আগস্ট ১৯, ২০২৬

র‍্যাবের বদলে এসআরবি: শুধু নাম পরিবর্তন, নাকি পুরোনো কাঠামোরই পুনরাবৃত্তি?

By বেঙ্গল টাইমস ডেস্ক:

1739da81-1cc0-4575-9620-d15370730199

গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গোপন বন্দিশালা পরিচালনাসহ গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্তির দাবি দীর্ঘদিনের। তবে নতুন প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় র‍্যাবকে পুরোপুরি বিলুপ্ত না করে অনেকটা একই কাঠামো ও ক্ষমতা নিয়ে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)’ নামে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গত সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, র‍্যাব বিলুপ্ত করে পুলিশ বাহিনীর অধীনে এসআরবি গঠনের কথা রয়েছে। তবে খসড়া আইনের বিভিন্ন বিধান বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, র‍্যাবের বর্তমান জনবল, ক্ষমতা, স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, আইনি সুবিধা, দায়দেনা এবং চলমান মামলা নতুন বাহিনীর কাছে হস্তান্তরের সুযোগ রাখা হয়েছে।

নতুন আইনে যা থাকছে

সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের প্রেষণ:গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন ও মানবাধিকারকর্মীদের পক্ষ থেকে বিশেষায়িত বাহিনীটি শুধু পুলিশ সদস্যদের নিয়ে গঠনের সুপারিশ করা হয়েছিল। তবে প্রস্তাবিত আইনের ৪(৩) ধারায় পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সদস্যদেরও এসআরবিতে প্রেষণে নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে।

বিস্তৃত ক্ষমতা ও নিজস্ব হাজতখানা: প্রস্তাবিত আইনে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার, তল্লাশি ও জব্দের বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে এসআরবিকে। একই সঙ্গে মামলা তদন্তের পাশাপাশি বাহিনীর নিজস্ব হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ রাখার বিধানও রয়েছে। এসব ক্ষমতা নিয়ে মানবাধিকারকর্মী ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

অভিযোগ প্রতিকার কমিটি: নতুন আইনে নাগরিক ও বাহিনীর সদস্যদের অভিযোগ তদন্তের জন্য পাঁচ সদস্যের একটি ‘অভিযোগ প্রতিকার কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে কমিটির পাঁচ সদস্যের মধ্যে চারজনই সরকার ও পুলিশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ায় এর স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সরকার ও বিশেষজ্ঞদের মত

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, এটি কেবল নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নয়; বরং নতুন কাঠামোর মাধ্যমে বাহিনীর জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য আইনি ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। রাষ্ট্রে গুরুতর ও জটিল অপরাধ মোকাবিলায় বিশেষ সক্ষমতাসম্পন্ন একটি বাহিনীর প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তবে মানবাধিকারকর্মী মো. নূর খান মনে করেন, র‍্যাবের পুরোনো কাঠামো, বিস্তৃত ক্ষমতা এবং সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের অন্তর্ভুক্তির সুযোগ বহাল রেখে শুধু নাম পরিবর্তন করা হলে নতুন বাহিনীও একই ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের সভাপতি বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীও বিশেষায়িত বাহিনীতে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের প্রেষণের বিধান বহাল রাখার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই র‍্যাবের বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের নানা অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন সময়ে দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থা ও জাতিসংঘের পক্ষ থেকেও বাহিনীটির সংস্কার কিংবা বিলুপ্তির সুপারিশ করা হয়েছে।

এখন র‍্যাব থেকে এসআরবিতে রূপান্তরের প্রস্তাব সামনে আসায় মূল প্রশ্নটি থেকেই যাচ্ছে—এটি কি সত্যিকারের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, নাকি পুরোনো কাঠামো ও ক্ষমতা বহাল রেখে শুধু নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ?