মেজর সাদেককে ঘিরে পুরোনো মামলার ‘হঠাৎ সক্রিয়তা’ নিয়ে প্রশ্ন, হয়রানির অভিযোগ
By বেঙ্গল টাইমস ডেস্ক:
সাবেক সেনাসদস্য মেজর সাদেককে ঘিরে একের পর এক মামলার কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁর পরিবার ও সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকা একটি পুরোনো মামলায় হঠাৎ করে কার্যক্রম শুরু করে তাঁকে আটকের ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৯ মে মেজর সাদেকের বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়। তবে মামলা দায়েরের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার বা আদালতে হাজির করার বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, মামলাটি যদি শুরু থেকেই কার্যকর prosecution-এর অংশ হয়ে থাকে, তাহলে এতদিন কেন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এরই মধ্যে ২০২৫ সালের ১৭ জুলাই থেকে মেজর সাদেক সামরিক হেফাজতে ছিলেন বলে তাঁর পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে। এই অবস্থায় ১৯ মে দায়ের হওয়া মামলাটিতে দীর্ঘ সময় কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ার বিষয়টিও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
বিশেষ করে ফৌজদারি কার্যবিধিতে তদন্ত ও আইনি কার্যক্রম অযথা বিলম্ব না করার যে নীতি রয়েছে, তার আলোকে এই দীর্ঘ নিষ্ক্রিয়তার ব্যাখ্যা কী—তা জানতে চাইছেন তাঁর আইনজীবী ও স্বজনরা।
অন্যদিকে, ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি দায়েরের সময়ও মেজর সাদেক সামরিক হেফাজতে ছিলেন বলে তাঁর পক্ষের দাবি। পরে ২০২৬ সালের ১০ আগস্ট ওই মামলায় তাঁকে ‘শো-অ্যারেস্ট’ দেখানোর আবেদন করা হয়।
তবে ১৬ আগস্ট আদালত তাঁর সামরিক হেফাজতে থাকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট থানার কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে শো-কজ করেন এবং শো-অ্যারেস্টের আবেদন নাকচ করে দেন বলে তাঁর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এর পরদিন, ১৭ আগস্ট মেজর সাদেকের মুক্তির সময় ঘনিয়ে আসার মধ্যে ২০২৫ সালের ১৯ মে দায়ের হওয়া পুরোনো মামলাটি সামনে আসে।
পরে ১৮ আগস্ট ওই মামলায় তাঁকে শো-অ্যারেস্ট দেখানোর আবেদন করা হয়। এখানেই মূল প্রশ্ন তুলেছেন তাঁর স্বজনরা—এতদিন নিষ্ক্রিয় থাকা মামলাটি ঠিক মুক্তির সময় কেন সক্রিয় হয়ে উঠল?
তাঁদের আরও প্রশ্ন, ১৯ মে-এর মামলায় যদি আগে থেকেই কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থেকে থাকে, তাহলে দীর্ঘ সময় সামরিক হেফাজতে থাকা অবস্থায় সেটি কার্যকর করা হয়নি কেন? আর যদি কোনো পরোয়ানা না থাকে, তাহলে মুক্তির মুহূর্তে হঠাৎ গ্রেপ্তারের প্রয়োজনীয়তা কীভাবে তৈরি হলো?
মেজর সাদেকের পক্ষের লোকজন মনে করছেন, মামলাগুলোর ধারাবাহিকতা ও সময়ের ব্যবধান খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাঁদের দাবি, দীর্ঘ সময় নিষ্ক্রিয় থাকা মামলা হঠাৎ সক্রিয় হওয়া, শো-অ্যারেস্টের আবেদন এবং আদালতের সিদ্ধান্তের পরপরই আরেকটি পুরোনো মামলায় ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনাগুলো নিছক আইনি প্রক্রিয়া, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে—তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা দরকার।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থা, পুলিশ বা রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে মামলাগুলোর প্রকৃত অবস্থা, কোনো পরোয়ানা আগে থেকে ছিল কি না এবং কার্যক্রমে বিলম্বের কারণ কী—এসব প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য উত্তর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
স্ত্রীকে ঘিরেও প্রশ্ন
মেজর সাদেককে দেখতে তাঁর স্ত্রী সুমাইয়া জাফরিন আদালত এলাকায় আসাকে ঘিরেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা মন্তব্য দেখা গেছে।
তাঁর পক্ষের অভিযোগ, স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে আদালতে আসা ও তাঁর মুক্তির জন্য আইনি প্রক্রিয়ায় পাশে থাকার স্বাভাবিক ঘটনাকেও নেতিবাচকভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে।
স্বজনদের ভাষ্য, একজন স্ত্রী তাঁর স্বামীর মামলার শুনানি ও আদালতসংক্রান্ত কার্যক্রমে উপস্থিত থাকবেন—এটি স্বাভাবিক পারিবারিক ও মানবিক বিষয়। সেটিকে নিয়ে বিদ্রূপাত্মক বা হেয় করার ধরনের উপস্থাপন অনাকাঙ্ক্ষিত বলেও তাঁরা মন্তব্য করেছেন।
মেজর সাদেকের পরিবার ও সমর্থকদের প্রশ্ন—একজন সাবেক সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে একাধিক মামলার কার্যক্রম যদি এভাবে পরপর সামনে আসে,
তাহলে প্রতিটি মামলার আইনগত ভিত্তি, তদন্তের অগ্রগতি এবং গ্রেপ্তারের প্রয়োজনীয়তা স্বচ্ছভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে কি না, তা জনসমক্ষে পরিষ্কার হওয়া জরুরি।
শেষ পর্যন্ত বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন হওয়ায় মামলাগুলোর বৈধতা ও অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব বিচারিক প্রক্রিয়ার।
তবে মামলার সময়কাল, হেফাজতের পরিস্থিতি এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের ধারাবাহিকতা নিয়ে যেসব প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলোর স্বচ্ছ ব্যাখ্যা পাওয়া জরুরি বলে মনে করছেন মেজর সাদেকের স্বজনরা।
তাঁদের প্রত্যাশা, আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ হবে এবং কোনো ব্যক্তিকে হয়রানি বা প্রতিহিংসার শিকার না করে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই প্রতিটি অভিযোগের নিষ্পত্তি হবে।