ভয়াবহ বন্যায় ড. ইউনূসের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন, দুর্যোগে ‘সুশীল সমাজের ভূমিকা’ নিয়ে নতুন বিতর্ক
By নিজস্ব প্রতিবেদক | বেঙ্গল টাইমস
দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা ও পাহাড়ধসে ব্যাপক প্রাণহানি এবং লাখো মানুষের দুর্ভোগের প্রেক্ষাপটে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নীরবতা নিয়ে জনপরিসরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
একই সঙ্গে দুর্যোগের সময়ে সুশীল সমাজের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। সাম্প্রতিক বন্যায় চট্টগ্রাম বিভাগ, পার্বত্য তিন জেলা এবং দেশের আরও কয়েকটি অঞ্চল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
টানা বৃষ্টি, পাহাড়ধস এবং আকস্মিক বন্যায় শতাধিক মানুষের প্রাণহানির পাশাপাশি লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবিক সংকটে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সরকারি সংস্থার পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষ ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন।
এমন পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে, দেশের অন্যতম আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত ব্যক্তিত্ব ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত বন্যাদুর্গত মানুষের প্রতি কোনো প্রকাশ্য বক্তব্য, সমবেদনা বা সহায়তার ঘোষণা দেখা যায়নি।
সমালোচকদের মতে, চট্টগ্রাম ড. ইউনূসের জন্মস্থান এবং কর্মজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ও এই অঞ্চলের সঙ্গে জড়িত। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা, জোবরা গ্রামে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের সূচনা এবং গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি বিশ্বব্যাপী পরিচিতি লাভ করেন।
সেই বিবেচনায় বন্যাকবলিত চট্টগ্রামের মানুষের পাশে তার আরও দৃশ্যমান ভূমিকা প্রত্যাশিত ছিল বলে অনেকে মনে করছেন।
অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, জাতীয় দুর্যোগের সময়ে সমাজের বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মানবিক সংহতি প্রকাশ জনমনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
তাই এ ধরনের সংকটে সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সক্রিয় ভূমিকা নিয়ে জনআলোচনা হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে এ বিষয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বা তার ঘনিষ্ঠ কোনো সূত্রের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।এদিকে বন্যাকবলিত এলাকায় উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদারের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে আরও ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।