হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published আগস্ট ১৬, ২০২৬

অপারেশন জ্যাকপট ডে: রাশিয়ান হাউজে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী ও নৌ-কমান্ডোদের সংবর্ধনা

By বিশেষ প্রতিবেদক, বেঙ্গল টাইমস

94180fb2-45f3-4070-8b1c-a77124e383c5

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর নৌ-কমান্ডোদের দুঃসাহসিক ও ঐতিহাসিক অভিযান ‘অপারেশন জ্যাকপট’ স্মরণে রাজধানীর ধানমন্ডির রাশিয়ান হাউজে বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী, স্মৃতিচারণ ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে ‘মুক্তি ৭১’।

অনুষ্ঠানে অপারেশন জ্যাকপটে অংশ নেওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা নৌ-কমান্ডো এবং মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তৎকালীন নেতৃত্বের উপস্থিতি আয়োজনটিকে আবেগঘন ও স্মৃতিময় করে তোলে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট মধ্যরাতে চট্টগ্রাম, মংলা, চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জ নৌবন্দরে একযোগে পরিচালিত ঐতিহাসিক অভিযানের ওপর নির্মিত একটি বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। প্রামাণ্যচিত্রে উঠে আসে কীভাবে মাত্র কয়েক মাসের প্রশিক্ষণ নিয়ে বাঙালি তরুণ নৌ-কমান্ডোরা অসীম সাহস ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে শত্রুপক্ষের জাহাজ ও নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থায় আঘাত হানেন।

জীবন বাজি রেখে পরিচালিত সেই অভিযানের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের সক্ষমতা ও প্রতিরোধের বার্তাও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পৌঁছে যায়।অনুষ্ঠানে উপস্থিত বীর নৌ-কমান্ডোরা স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সেই ভয়াবহ ও রোমাঞ্চকর রাতের নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

তারা জানান, সমুদ্রের পানিতে দীর্ঘ সময় ভেসে থেকে শত্রুর অবস্থানের কাছে পৌঁছানো এবং বিস্ফোরক স্থাপন করে নিরাপদে ফিরে আসা ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটি অভিযান। যেকোনো মুহূর্তে প্রাণ হারানোর আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও দেশের স্বাধীনতার জন্য তারা সেই ঝুঁকি গ্রহণ করেছিলেন।

বীর নৌ-কমান্ডোরা বলেন, অপারেশন জ্যাকপট শুধু একটি সামরিক অভিযান ছিল না; এটি ছিল মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই অভিযানের সাফল্য পাকিস্তানি বাহিনীর নৌ-যোগাযোগ ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের আঘাত হানার পাশাপাশি বিশ্ববাসীর সামনে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামকে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছিল।

অনুষ্ঠানে ‘মুক্তি ৭১’ ও রাশিয়ান হাউজের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও স্মরণ করেন। তারা বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন এবং যুদ্ধোত্তর পুনর্গঠনে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের সহযোগিতা ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে রয়েছে। "অপারেশন জ্যাকপট" এর মুল লক্ষ্য ছিলো পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর রসদ ও যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করা।​সংকেত ছিলো, আকাশবাণী রেডিওতে পঙ্কজ মল্লিকের গাওয়া "আমি তোমায় যত শুনিয়েছিলাম গান" (অভিযানের প্রস্তুতি) এবং আরতি মুখোপাধ্যায়ের "আমার পুতুল যাবে প্রথম শশুড়বাড়ি" (আক্রমণের চূড়ান্ত সংকেত) গান দুটির মাধ্যমে কমান্ডোদের সংকেত দেওয়া হয়েছিল।এই বিষয় নিয়ে কুইজ হয়। কুইজে জেন-জি( তরুনরা) অংগ্রহন করে। প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় জনকে পুরস্কৃত করা হয়। 

বিশেষভাবে মুক্তিযুদ্ধের পর চট্টগ্রাম বন্দরকে সচল করতে সোভিয়েত নৌবাহিনীর মাইন অপসারণ কার্যক্রমের অবদানের কথা অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়। যুদ্ধের সময় পেতে রাখা মাইন অপসারণের মাধ্যমে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রবন্দরকে পুনরায় কার্যক্রমের উপযোগী করে তুলতে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।

প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী ও স্মৃতিচারণ পর্ব শেষে অপারেশন জ্যাকপটসহ মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বীর নৌ-কমান্ডো ও মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

 অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি কূটনীতিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, গবেষক, শিক্ষাবিদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং তরুণ প্রজন্মের বিপুলসংখ্যক দর্শক উপস্থিত ছিলেন। রাশিয়ান রাষ্ট্রদূত তার প্রতিনিধি আলেকজান্দার মাধ্যমে বাংলাদেশের সাথে  বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন।আলেকজান্দা বলেন,ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের সাথে সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক থাকবে। আয়োজকরা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ ও সাহসিকতার ইতিহাস সংরক্ষণ করাই এ ধরনের আয়োজনের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি কূটনীতিবিদ, মুক্তিযোদ্ধা, বিশিষ্ট গবেষক এবং তরুণ প্রজন্মের বিপুল সংখ্যক দর্শক উপস্থিত ছিলেন এবং হল রুম জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু ধ্বনিতে প্রকম্পিত ছিলো।