যুদ্ধবিরতির আভাসে বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন, কমল ৫ শতাংশের বেশি
By আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বেঙ্গল টাইমস, প্রকাশিত: ২৭ জুলাই ২০২৬ | বেলা ১১:২৪
লন্ডন ও নিউইয়র্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনের ইঙ্গিত এবং সাময়িক যুদ্ধবিরতির খবরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের স্বস্তি ফিরেছে।
এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম একদিনেই ৫ শতাংশের বেশি কমেছে।ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস ও রয়টার্স-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানবিরোধী সামরিক অভিযান ও বিমান হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় এবং কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
তেলের দামে উল্লেখযোগ্য পতন
সোমবার (২৭ জুলাই) এশিয়ার বাজারে লেনদেন শুরুর পর থেকেই আন্তর্জাতিক তেলের প্রধান বেঞ্চমার্কগুলোর দাম নিম্নমুখী হতে শুরু করে।
- ব্রেন্ট ক্রুড (Brent Crude): আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৫.০৫ শতাংশের বেশি কমে ব্যারেলপ্রতি ৯১.৮৯ মার্কিন ডলারে নেমে আসে। একপর্যায়ে এর দাম ৯০ ডলারের কাছাকাছিও পৌঁছে যায়।
- ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI): যুক্তরাষ্ট্রের মানদণ্ডের অপরিশোধিত তেলের দাম ৫.২৩ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৪.৬৪ মার্কিন ডলারে দাঁড়ায়।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ধারাবাহিকভাবে বেড়েছিল। তবে সাময়িক যুদ্ধবিরতির খবর প্রকাশের পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরে আসতে শুরু করেছে।
হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব
বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল পরিবহনের একটি বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করে। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকে এবং হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানিবাহী জাহাজের চলাচল স্বাভাবিক হয়, তাহলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা ফিরবে এবং বাজারে মূল্যচাপ আরও কমতে পারে।
বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা কমার ইঙ্গিত বিশ্ব অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। এতে শুধু জ্বালানি বাজারই নয়, বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির ওপরও চাপ কমতে পারে।
তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি স্থায়ী শান্তির দিকে এগোবে নাকি এটি কেবল অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি—তা এখনও নিশ্চিত নয়। আগামী দিনগুলোর কূটনৈতিক অগ্রগতি ও সামরিক পরিস্থিতির ওপরই আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা নির্ভর করবে।