এনসিপির পদযাত্রার আগে মেহেরপুরে নাহিদ-হাসনাত-সারজিসের কুশপুত্তলিকা ঝুলিয়ে উত্তেজনা ভয়ভীতি সৃষ্টির অভিযোগ এনসিপির, তদন্তে নেমেছে পুলিশ।
By বেঙ্গল টাইমস ডেস্ক, মেহেরপুর, ২৭ জুলাই ২০২৬:
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র নির্ধারিত পদযাত্রা ও পথসভার কয়েক ঘণ্টা আগে দলটির শীর্ষ নেতাদের ছবি সংবলিত একাধিক কুশপুত্তলিকা বৈদ্যুতিক তারে ঝুলিয়ে রাখার ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার সকালে এসব কুশপুত্তলিকা দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে সেগুলো উদ্ধার করে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গাংনী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ভবনসংলগ্ন বৈদ্যুতিক খুঁটি এবং পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে ঝুলন্ত অবস্থায় কুশপুত্তলিকাগুলো দেখা যায়।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সেগুলো সরিয়ে নিয়ে যায়।উদ্ধার হওয়া কুশপুত্তলিকাগুলোতে এনসিপির শীর্ষ নেতা নাহিদ ইসলাম, হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলম-সহ কয়েকজন নেতার ছবি সংযুক্ত ছিল।
এছাড়া কুশপুত্তলিকার গায়ে লেখা ছিল— “তরুণ সমাজকে ললিপপ হাতে ধরিয়ে দেশ নিল রসাতলে” এবং “এদের প্রতিহত করুন, এদের ঘৃণা করুন”—
যা ঘটনাটিকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তোলে।এদিন বিকেলে গাংনী বাজার বাসস্ট্যান্ড চত্বরে এনসিপির পদযাত্রা ও পথসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। দলটির নেতাদের অভিযোগ, কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং সমর্থকদের ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের ঘটনা ঘটানো হয়েছে।এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সমন্বয়কারী ও মেহেরপুর জেলা সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট শাকিল আহমেদ বলেন, পদযাত্রায় ব্যাপক জনসমাগমের সম্ভাবনা থাকায় একটি দুর্বৃত্ত চক্র পরিবেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।অন্যদিকে, গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাদ্দিদ মুর্শেদ চৌধুরী জানান, প্রাথমিকভাবে বিষয়টি আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা শনাক্তে তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।ঘটনার পর এলাকায় রাজনৈতিক আলোচনা ও উত্তেজনা বেড়েছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে এবং পদযাত্রা ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।