শ্রদ্ধা, স্মরণ ও প্রেরণায় জাতি: শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী পালিত।
By নিজস্ব প্রতিবেদক | বেঙ্গল টাইমস
আজ ৩০ মে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী। গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও আবেগঘন পরিবেশে দেশব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, পেশাজীবী এবং সাধারণ মানুষ নানা আয়োজনে অংশ নিয়ে স্মরণ করছেন বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ও প্রভাবশালী এই রাষ্ট্রনায়ককে।
১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে এক সামরিক অভ্যুত্থানের সময় নিহত হন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান ঘটে। তবে মৃত্যুর চার দশকেরও বেশি সময় পরও দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনায় তার অবদান নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে বিভাগীয় শহর, জেলা, উপজেলা এবং গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে দোয়া মাহফিল, কোরআনখানি, আলোচনা সভা, এতিম ও অসহায়দের মাঝে খাবার বিতরণ এবং স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিভিন্ন কর্মসূচিতে বক্তারা জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক জীবন, রাষ্ট্র পরিচালনায় তার ভূমিকা এবং স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশ পুনর্গঠনে তার অবদানের কথা তুলে ধরেন।
রাজধানীতে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে নেতাকর্মীরা শহীদ রাষ্ট্রপতির স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। একইসঙ্গে দেশের বিভিন্ন মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে। অনেক স্থানে রক্তদান কর্মসূচি ও দরিদ্রদের মধ্যে খাদ্য বিতরণও করা হয়েছে।
বক্তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। পরবর্তীকালে রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে তিনি জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তার শাসনামলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, গ্রামীণ উন্নয়ন, স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ এবং বৈদেশিক সম্পর্ক সম্প্রসারণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানগুলোতে বক্তারা আরও বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে জিয়াউর রহমান এমন একজন নেতা, যিনি জাতীয়তাবাদ, আত্মনির্ভরশীলতা এবং উন্নয়নমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থার ধারণাকে জনপ্রিয় করে তুলেছিলেন। দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কারণে তিনি সাধারণ মানুষের মধ্যে বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন বলেও মত প্রকাশ করেন তারা।
শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে পৃথক বাণী দিয়েছেন। তারা জিয়াউর রহমানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তার আদর্শ ও কর্মকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে, দিবসটি উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানও আলোচনা সভা ও স্মৃতিচারণমূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। এসব আয়োজনে ইতিহাসবিদ, গবেষক ও বিশিষ্টজনেরা জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন, রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় তার ভূমিকা নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী ইতিহাসে জিয়াউর রহমান একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী নাম। তার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার আজও দেশের রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব বিস্তার করে চলেছে। সমর্থকদের কাছে তিনি একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক, অন্যদিকে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন মহলে বিতর্কও রয়েছে। তবে এ বিষয়ে প্রায় সবাই একমত যে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তার ভূমিকা অনস্বীকার্য।
দিবসটি উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণও ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকে তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্মৃতিচারণ করেছেন এবং তার কর্মজীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন।
৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করতে গিয়ে বক্তারা বলেন, ইতিহাসে কিছু ব্যক্তিত্ব থাকেন যাদের প্রভাব সময়ের সীমা অতিক্রম করে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে প্রবাহিত হয়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে জিয়াউর রহমান তেমনই এক ব্যক্তিত্ব, যার জীবন, কর্ম ও আদর্শ নিয়ে আলোচনা এখনও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
আজকের এই দিনে দেশবাসী গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে
সেই রাষ্ট্রনায়ককে, যিনি যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে পুনর্গঠনের স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং একটি আত্মমর্যাদাশীল, উন্নয়নমুখী রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে কাজ করেছিলেন। তার ৪৫তম
শাহাদাৎবার্ষিকীতে জানানো হচ্ছে গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মান।