এসসিও সম্মেলনের ফাঁকে পেজেশকিয়ানের সঙ্গে মোদির বৈঠক, আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা
By বেঙ্গল টাইমস ডেস্ক, প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬,
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোমবার (৩১ আগস্ট) কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশেকেকে সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে দুই নেতার মধ্যে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর মোদি ও পেজেশকিয়ানের মধ্যে এটিই প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ। ফলে আঞ্চলিক অস্থিরতার বর্তমান প্রেক্ষাপটে দুই নেতার বৈঠককে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
বৈঠকে ভারত ও ইরানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, বৈঠকে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাঘচিও ছিলেন।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যে বৈঠক
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে যখন নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, ঠিক সেই সময়েই মোদি-পেজেশকিয়ান বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হলো।
ভারত ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। ইরান ভারতের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদারদের একটি হলেও বর্তমানে দুই দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এবং ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও পরিবহন ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলছে।এর আগে গত জুনে টেলিফোনে কথা বলেছিলেন দুই নেতা। ওই আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত কমানো এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগ ও ভূমিকার প্রশংসা করেছিলেন পেজেশকিয়ান।
আগ্রাসনের জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি
বিশেকেকে বৈঠকের আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আবারও তার দেশের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধ চায় না। তবে কোনো ধরনের আগ্রাসন হলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
সম্প্রতি ইরানের একটি ছোট দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার ঘটনার পর তিনি এ সতর্কবার্তা দেন বলে জানা গেছে।
পেজেশকিয়ান আরও বলেন, এসসিওর মতো একটি বহুপক্ষীয় প্ল্যাটফর্মে স্বাধীন কণ্ঠস্বরের উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তার মতে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে এসসিও বিভিন্ন দেশের মতামত তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে।
এদিকে তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের প্রতিনিধিরা ইস্তাম্বুলে ‘মক্কা চুক্তি’র প্রথম বৈঠকে অংশ নিতে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত কূটনৈতিক সমীকরণের মধ্যে এ ধরনের ধারাবাহিক বৈঠক ও যোগাযোগ আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।