দেশে হাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনক, বাড়ছে শিশুমৃত্যু।
By বিশেষ প্রতিবেদন | বেঙ্গল টাইমস
বাংলাদেশে চলমান হাম (Measles) প্রাদুর্ভাব জনস্বাস্থ্যের জন্য ভয়াবহ উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। গত মার্চ থেকে শুরু হওয়া এ প্রাদুর্ভাবে প্রতিদিনই নতুন আক্রান্ত ও মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে হাম ও হাম-সদৃশ উপসর্গে মৃত শিশুর সংখ্যা ৬৪০-এর কাছাকাছি পৌঁছেছে, যা দেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য সংকট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আক্রান্তদের অধিকাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মোট আক্রান্তের প্রায় ৭৯ থেকে ৮১ শতাংশই পাঁচ বছরের নিচের শিশু, যাদের অনেকেই টিকার আওতার বাইরে ছিল অথবা
নির্ধারিত দুই ডোজ টিকা সম্পূর্ণ পায়নি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও কয়েকজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে শত শত নতুন রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি হয়েছে।
হাসপাতালগুলোতে শিশু রোগীর চাপও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, গত কয়েক বছরে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে বিঘ্ন, টিকার ঘাটতি এবং অনেক শিশুর টিকা না নেওয়ার কারণে দেশে বড় ধরনের ‘ইমিউনিটি গ্যাপ’ তৈরি হয়েছে।
এর ফলেই হাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার জরুরি হাম-রুবেলা (MR) টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), ইউনিসেফ ও গ্যাভির সহযোগিতায় দেশের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে শিশুদের টিকা দেওয়া হচ্ছে।
অভিভাবকদের সন্তানদের দ্রুত টিকাদানের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলেছেন, হামকে সাধারণ জ্বর বা চর্মরোগ ভেবে অবহেলা করলে মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে। উচ্চ জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষকদের মতে,
বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে
দ্রুত ও ব্যাপক টিকাদান,
সচেতনতা বৃদ্ধি এবং
প্রত্যন্ত অঞ্চলে চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণ ছাড়া বিকল্প নেই।
অন্যথায় শিশুমৃত্যুর এই মিছিল আরও দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।