হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published মে ১৬, ২০২৬

১৭ মে’র প্রতিজ্ঞা: প্রতিরোধ, ঐক্য ও চূড়ান্ত বিজয়ের পথে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

By সুজাউদ্দিন তুহিন, সাবেক সভাপতি ধানমন্ডি থানা ছাত্রলীগ এবং সাবেক যুগ্ন-সাধারন সম্পাদক ঢা:ম:উ  ছাত্রলীগ।

IMG_5751

আমরা আমাদের সংকট এখনো পুরোপুরি আমরা কাটিয়ে উঠতে পারিনি বা কাঙ্খিত গন্তব্যে পৌছাতে পারিনি বলে হয়তো মাঝেমধ্যে কিছুটা ক্লান্ত লাগে,সাময়িকভাবে উদ্যম হারাই।কিন্তু আবেগ দিয়ে না ভেবে রাজনৈতিক পরিক্রমার নিরপেক্ষ দৃষ্টি থেকে যদি চিন্তা করেন তাহলে কিন্তু চব্বিশের আগষ্টের পর থেকে প্রতিটি ধাপে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ স্পষ্টভাবে বিজয়ী।মহান সৃষ্টিকর্তার অনুগ্রহে আওয়ামী লীগ এর নেতাকর্মীদের অদম্য একাত্মতা ও দেশপ্রেম সকল ষড়যন্ত্রকে পরাজিত করতে পেরেছে।

প্রথমত এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন আমাদের আপা সুস্থ্য আছেন।এটা মহান রাব্বুল আলামিনের কৃপা,তিনি গনভবন অভিমুখী খুনী মবের হাত থেকে মাননীয় নেত্রীকে সসম্মানে রক্ষা করেছেন।

দ্বিতীয় বিষয় ছিলো রাজাকার জামাত বিএনপির বিকৃত মানসিতার এক অপচেষ্টা।তারা ৫ আগষ্টের পর সারাদেশে জাতির পিতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সকল স্মারক স্মৃতিকে উদ্দেশ্যমূলক  অপমানজনকভাবে ধূলায় মিশিয়ে দিতে চেয়েছিলো এবং সারাদেশে মব নামের জামাত বিএনপির সন্ত্রাসীরা এমন পরিকল্পিতভাবে  খুন,ধর্ষন,লুটপাট শুরু করেছিলো-যার মূল উদ্দেশ্য ছিলো বীর মুক্তিযোদ্ধা,আওয়ামী লীগ এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে ভূলুণ্ঠিত করে,৭১ এর চেতনার সকল বিশ্বাসীকে দমন ও মবের ভয় দেখিয়ে দেশের তৃতীয় শ্রেনীর নাগরিক বানিয়ে রাখা।বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শতশত নেতাকর্মী জীবন দিয়েছে,হাজার হাজার আহত হয়েছে,লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মী জেল জুলুম সইছে,বাড়ীঘর সম্পদ লুট হয়েছে তবু মাথা নোয়ায়নি।নেতাকর্মীর এই ইস্পাত কঠিন দৃড়তা রাজাকার জামাত বিএনপির দ্বিতীয় চেষ্টাকেও ধূলিসাৎ করে দিয়েছে।

তৃতীয়ত-রাজাকার জামাত বিএনপি তাদের গডফাদার ইউনুসের সময়ের প্রথমদিন থেকেই শতভাগ চেষ্টা করেছে আওয়ামী লীগকে ভেঙ্গে টুকরো টুকরো করার।টুকরা করাতো দূর,বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের একজন কর্মীকেও তারা দল থেকে ভাগিয়ে নিতে পারেনি।দমন পীড়ন জেল জুলুম এমনকি মৃত্যুভয় উপেক্ষা করে জননেত্রী শেখ হাসিনার নামে ইস্পাতকঠিন ঐক্যবদ্ধতা দিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ রাজাকার জামাত বিএনপির তৃতীয় অপচেষ্টাকেও মাঠে মেরে দিয়েছে।

চতুর্থত-তৃতীয় চেষ্টায় বিফল হয়ে রাজাকার জামাত বিএনপি এবং তাদের বিদেশী বাপেরা চেষ্টা করেছিলো রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ নামের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করতে!এই চেষ্টায় ও তারা হাস্যকরভাবে পরাজিত এবং হতাশ হয়েছে।

পঞ্চম এবং আওয়ামী লীগ এর চেষ্টার গুরুত্বপূর্ন বিজয় বিদেশী পাপেট ইউনুসকে হটানো।ইউনুস এবং তার গ্যাং নানানভাবে চেষ্টা করেছিলো তাদের দখলকৃত ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করতে।সকল দমন পীড়ন উপেক্ষা করে আওয়ামী লীগ এর ধারাবাহিক সক্রিয়তা ইউনুসের সেই অপচেষ্টাকে হারিয়ে দিয়ে তাকে বিদায় নিতে বাধ্য করেছে।

সর্বশেষ দালাল ইউনুসের মাধ্যমে রাজাকার জামাত বিএনপি একটা পাতানো ভাগাবাটোয়ারার সান্ধ্যাকালীন নির্বাচন দিয়ে ভেবেছিলো দেশকে নিয়ন্ত্রনে আনতে পারবে।কিন্তু ওই যে কথায় আছে ছাগল দিয়ে হালচাষ হয়না।দেশের মানুষ বরং জামাত বিএনপিকে পরখ করে দেখে এই সল্প সময়েই আরো গভীরভাবে অনুধাবন করছে শেখ হাসিনার প্রয়োজনীয়তা।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী তাদের জীবন দিয়ে এই দেশের স্বাধীনতা ও স্বার্বভৌমত্বকে রক্ষা করেছে।আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর ত্যাগ এবং দেশপ্রেমই এখনো অব্দি শকুনের নখর থেকে দেশের স্বাধীন পতাকাকে রক্ষা করে আগলে রেখেছে।

জননেত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে দেশের শাসনভার তার হাতে ন্যাস্ত করে দেশের সকল অপশক্তিকে সম্পূর্ণরুপে পরাস্ত করাই আমাদের কাঙ্খিত গন্তব্য।এবং সেই গন্তব্যে পৌছানোর সকল ধাপ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ  বিজয়ী হয়ে পার করে এসেছে।

এখন জননেত্রী শেখ হাসিনা ইতিমধ্যে নিজেদের আরো ঐক্যবদ্ধ এবং সাংগঠনিক দৃড়তাকে আরো অটুট করতে সকল স্তরে পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের দিয়ে কমিটি গঠন এবং শ্রেনী পেশা নির্বিশেষে সকল স্তরের জনগনের সাথে আমাদের আরো সম্পৃক্ত হওয়ার যে নির্দেশনা দিয়েছেন আমরা অক্ষরে অক্ষরে সেটা পালন করবো।এখনো জেলে থাকা নেতাকর্মীর আইনী সুরক্ষার দাবীতে আরো সক্রিয় হবো।

আওয়ামীলীগ ও ছাত্রলীগ এর উপর আরোপিত অবৈধ নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নিতে পাপেটদের আমরা বাধ্য করবো।সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারসহ অবৈধ গ্রেফতারের পথ আমরা চিরতরে বন্ধ করে দিবো।দেশকে বিক্রি করে ক্ষমতায় বসে যাচ্ছেতাই করা রাজাকার জামাত বিএনপি এবং সাম্রাজ্যবাদের লোলুপতাকে আমরা পরাস্ত করবোই।

আজ ১৭ মে বাংলার মানুষের মুক্তির আলো,দেশরত্ন,রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে এই আমাদের প্রতিজ্ঞা।

জয় বাংলা ,জয় বঙ্গবন্ধু