নভেম্বরেই শুরু হতে পারে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, অক্টোবরে ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনের ভাবনা
By নিজস্ব প্রতিবেদক | বেঙ্গল টাইমস
আগামী অক্টোবর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের যে প্রাথমিক পরিকল্পনা করেছিল নির্বাচন কমিশন (ইসি), তা কিছুটা পিছিয়ে নভেম্বরে নেওয়ার কথা ভাবছে কমিশন।
এর আগে অক্টোবরের শেষ দিকে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেওয়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
ইসি সূত্র জানিয়েছে, শূন্য আসনের উপনির্বাচন আয়োজনের সাংবিধানিক ও আইনগত সময়সীমা বিবেচনায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচিতে পরিবর্তনের চিন্তা করা হচ্ছে। এ কারণে সেপ্টেম্বরে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের তপশিল ঘোষণা হতে পারে।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, কোনো সংসদীয় আসন শূন্য হলে আইন অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে সেখানে নির্বাচন আয়োজন করতে হয়। যেহেতু ঠাকুরগাঁও-১ আসন ইতোমধ্যে শূন্য হয়েছে, তাই অক্টোবরের শেষ দিকে সেখানে ভোট আয়োজনের পরিকল্পনা করছে কমিশন।
নভেম্বর থেকে স্থানীয় ভোটের সম্ভাবনা
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার বলেন, অক্টোবরের মধ্যে নির্বাচনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।
তবে ভোট গ্রহণের সময় নভেম্বর করার পরিকল্পনা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নভেম্বর, ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি সাধারণত নির্বাচন আয়োজনের জন্য তুলনামূলকভাবে অনুকূল সময়।
তবে দুর্গাপূজা, রমজান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা, বার্ষিক পরীক্ষা এবং সম্ভাব্য বন্যার মতো বিষয়গুলোও ভোটের সময় নির্ধারণে বিবেচনায় নেওয়া হবে। তিনি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তপশিল নিয়ে এখনো কমিশনের আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। তবে নভেম্বরে ভোট হলে আইন অনুযায়ী সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে তপশিল ঘোষণা করার প্রয়োজন হতে পারে।
ইউনিয়ন পরিষদ দিয়ে শুরু করার পরিকল্পনা
ইসি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদে ভোট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
একই সময়ে কিছু পৌরসভাতেও নির্বাচন হতে পারে। পর্যায়ক্রমে উপজেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন এবং জেলা পরিষদের নির্বাচন আয়োজনের কথা ভাবছে কমিশন।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ আরও জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণবিধি আইন মন্ত্রণালয় থেকে কমিশনে এসেছে। তবে নির্বাচনী বিধিমালার সুপারিশ এখনো পাঠানো হয়নি। নির্বাচনী আইনে কিছু পরিবর্তনের বিষয় বিবেচনায় থাকায় এ বিষয়ে আরও কাজ চলছে।
সহিংসতামুক্ত ভোটের ওপর জোর
রাজধানীতে আয়োজিত এক সংলাপে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ স্থানীয় সরকার নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা থাকলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনও সহিংসতামুক্তভাবে আয়োজন করা সম্ভব।
স্থানীয় নির্বাচনে সহিংসতার প্রবণতা তুলনামূলক বেশি হওয়ায় কমিশন এ বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকবে বলেও জানান তিনি।
সানাউল্লাহ বলেন, শুধু প্রার্থী মনোনয়ন পেলেই নির্বাচিত হওয়ার নিশ্চয়তা থাকবে না; জনগণের ভোটেই জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন। নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর তাগিদ
সংলাপে নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরাও আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে মতামত দেন।
নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ আব্দুল আলীম নির্বাচন আয়োজনের আগে কমিশনের সুস্পষ্ট অ্যাকশন প্ল্যান তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন।
অন্যদিকে সংসদ সদস্য সাইফুল আলম মিলন জাতীয় নির্বাচনে কিছু কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ, গণনা ও কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এসব বিষয় আরও সতর্কতার সঙ্গে দেখার আহ্বান জানান তিনি।
সংলাপে বিভিন্ন দলের নেতারা নির্বাচনে নারী অংশগ্রহণ, ভোট ব্যবস্থাপনা, অর্থায়ন এবং ভোট গণনার স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনা করেন। এখন পর্যন্ত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের চূড়ান্ত তপশিল ঘোষণা হয়নি। তবে কমিশনের বর্তমান পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে অক্টোবরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনের প্রস্তুতি দৃশ্যমান হতে পারে এবং নভেম্বর থেকে ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।