হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published আগস্ট ২২, ২০২৬

রাজধানীসহ সারাদেশে তীব্র লোডশেডিং, বিদ্যুৎ ঘাটতি ছাড়াল ১,৮০০ মেগাওয়াট

By নিজস্ব প্রতিবেদক, বেঙ্গল টাইমস

IMG_9200

দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় ফের চাপ তৈরি হয়েছে। কয়েকটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন কমে যাওয়ায় শনিবার রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং বেড়েছে। ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও ঢাকার অনেক এলাকায় একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, শনিবার বিকেলের দিকে জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুতের ঘাটতি প্রায় ১ হাজার ৯০০ মেগাওয়াটে পৌঁছে যায়।

বিকেল ৫টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ১৫৭ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যায় ১৪ হাজার ২৭৩ মেগাওয়াট। এ সময় ঘাটতি ছিল ১ হাজার ৮৮৪ মেগাওয়াট।এর এক ঘণ্টা আগে বিকেল ৪টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ২৪ মেগাওয়াট এবং সরবরাহ ১৪ হাজার ৮৯ মেগাওয়াট।

তখন ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়ায় ১ হাজার ৯৩৫ মেগাওয়াট। বিকেল ৩টাতেও ঘাটতি ছিল ১ হাজার ৮৯১ মেগাওয়াট।দিনের শুরুতে পরিস্থিতি তুলনামূলক স্বাভাবিক থাকলেও দুপুরের পর বিদ্যুৎ ঘাটতি দ্রুত বাড়তে থাকে।

দুপুর ২টায় ঘাটতি ছিল ৬৬৭ মেগাওয়াট এবং বেলা ১টায় ৭৮৬ মেগাওয়াট।শুধু দিনের বেলায় নয়, আগের রাতেও বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা যায়।

রাত ২টায় জাতীয় পর্যায়ে চাহিদার বিপরীতে ঘাটতি ছিল ২ হাজার ৯৯ মেগাওয়াট। রাত ৩টায় তা বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ৩৫ মেগাওয়াটে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম জানান, বর্তমানে গ্যাসের সরবরাহ মোটামুটি থাকলেও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে প্রত্যাশিত উৎপাদন পাওয়া যাচ্ছে না। পাশাপাশি আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকেও সরবরাহ কমেছে।

তিনি জানান, দিনের বিভিন্ন সময়ে পটুয়াখালীর নরিংকো, পায়রা ও মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকেও উৎপাদন কম ছিল। তবে সন্ধ্যার দিকে নরিংকো ও মাতারবাড়ী কেন্দ্র থেকে সরবরাহ কিছুটা বাড়ে।

আদানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা চলছে বলে তারা জানিয়েছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে আদানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন নেমে আসে প্রায় ৯৫৫ মেগাওয়াটে।

এর মাত্র এক ঘণ্টা আগে উৎপাদন ছিল ১ হাজার ৩০৪ মেগাওয়াট। অর্থাৎ এক ঘণ্টায় উৎপাদন কমে যায় প্রায় ৩৪৯ মেগাওয়াট। দিনের বড় অংশে এই কেন্দ্র থেকে সরবরাহ ৮০০ থেকে ৯০০ মেগাওয়াটের মধ্যে ছিল।

এদিকে পায়রা কেন্দ্র থেকেও প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট এবং নরিংকো ও মাতারবাড়ী থেকে সম্মিলিতভাবে প্রায় ৬০০ মেগাওয়াট কম বিদ্যুৎ পাওয়া গেছে। বড় কয়েকটি কেন্দ্রের উৎপাদন একসঙ্গে কমে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ-চাহিদার ব্যবধান বেড়ে যায়।

ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) সূত্রে জানা গেছে, শনিবার তাদের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল প্রায় ২ হাজার ৩৩৩ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে ঘাটতি ছিল প্রায় ২৫০ মেগাওয়াট।

ফলে ডিপিডিসির আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় কয়েক দফায় লোডশেডিং করতে হয়েছে।অন্যদিকে ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) এলাকায় চাহিদা ছিল প্রায় ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট। সেখানে ঘাটতি দাঁড়ায় প্রায় ৪০০ মেগাওয়াট। এ কারণে ডেসকোর আওতাধীন কোনো কোনো এলাকায় কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়েছে।বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাস সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হলেও কয়লা ও অন্যান্য জ্বালানিনির্ভর কেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন কমে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে। বড় কেন্দ্রগুলো থেকে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ না পাওয়ায় ঘাটতি সামাল দিতে বিতরণ পর্যায়ে লোডশেডিং বাড়ানো ছাড়া আপাতত বিকল্প থাকছে না।