হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published আগস্ট ৯, ২০২৬

বিদ্যুৎ নিয়ে বিচারকের মন্তব্যের অভিযোগ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ আদালতে বিক্ষোভ-ভাঙচুর

By চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি | বেঙ্গল টাইমসপ্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬

IMG_8844

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে এক বিচারকের কথিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

রোববার দুপুরে আদালতের দ্বিতীয় ভবনের দ্বিতীয় তলায় বিচারকের খাস কামরার সামনে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি বিস্ফোরক মামলায় জামিনের আবেদনকে কেন্দ্র করে আদালতে উপস্থিত ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী।

জামিন মঞ্জুরের পর বিচারকের সঙ্গে তাদের কথোপকথন নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়।জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব বাবর আলী রুমনের দাবি, জামিন দেওয়ার পর বিচারক বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তাদের উদ্দেশে বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে আদালতে বিদ্যুৎ নেই এবং ‘আগের সরকারই ভালো ছিল’।

বিচারকের এমন বক্তব্যের প্রতিবাদে আদালত থেকে বেরিয়ে নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করেন বলে জানান বাবর। পরে বিচারককে প্রত্যাহারের দাবিতে ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা ঘোষণা করা হয়।

তবে বিক্ষোভের একপর্যায়ে বিচারকের খাস কামরার দরজার কাঁচ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা বাবর আলী রুমন।

তার ভাষ্য, কারা ভাঙচুর করেছে তা আদালতের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করলেই শনাক্ত করা সম্ভব। তিনি বলেন, ঘটনায় যারাই জড়িত থাকুক, ফুটেজ দেখে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অন্যদিকে জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু হাসিব ঘটনাটিকে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন।

তার অভিযোগ, কিছু উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি আদালত চত্বরে জড়ো হয়ে বিচারকের খাস কামরার সামনে ‘মব’ তৈরি করেন এবং একপর্যায়ে দরজায় ভাঙচুর চালান।

তিনি এ ঘটনাকে ‘মব কালচারের’ একটি উদাহরণ হিসেবেও উল্লেখ করেন।চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার পরিদর্শক (অভিযান) আব্দুর রউফ জানান, আদালত প্রাঙ্গণে ভাঙচুর ও বিক্ষোভের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।

পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হলেও পুলিশ গিয়ে তা নিয়ন্ত্রণে আনে।

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে, তবে তা বড় ধরনের নয়। বর্তমানে আদালত এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

এদিকে সংশ্লিষ্ট মামলার বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা বাবর জানান, ২০২৩ সালের একটি বিস্ফোরক মামলায় তিনি ও দলের কয়েকজন নেতাকর্মী আসামি।

রোববার তারা আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।

ঘটনার বিষয়ে আদালত কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

তবে আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের ঘটনায় বিচারাঙ্গনের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

ঘটনার প্রকৃত কারণ ও ভাঙচুরে কারা জড়িত ছিলেন, তা নিশ্চিত করতে তদন্তের দাবি উঠেছে।এদিকে আদালত প্রাঙ্গণে এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।