মিছিলে যোগ দেওয়াই কাল! তুরাগ থেকে ৩ আ’লীগ কর্মীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার, নিখোঁজ আরও ৪
By নিজস্ব প্রতিবেদক, বেঙ্গল টাইমস, ২৬ জুন, ২০২৬
ঢাকা: মাত্র কয়েক দিন আগে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার খেসারত দিতে হলো রক্ত দিয়ে। গত ২২শে জুন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একটি মিছিলে যোগ দেওয়ার পর থেকেই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ ছিলেন ৭ জন নেতাকর্মী। নিখোঁজের চার দিন পর, আজ ঢাকার তুরাগ নদী থেকে তাদের মধ্যে ৩ জনের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, তাদের নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করার পর লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় বাকি ৪ জনের এখনও কোনো খোঁজ মেলেনি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (২২শে জুন) আওয়ামী লীগের ওই মিছিলটি শেষ হওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ হন এই ৭ জন। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তাদের সন্ধান পাননি। আজ তুরাগ নদীতে লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ এসে ৩ জনের লাশ উদ্ধার করার পর স্বজনরা নিখোঁজদের পরিচয় শনাক্ত করেন। লাশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। বাকি ৪ জনের সন্ধানে নদীতে তল্লাশি চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস ও নৌ-পুলিশ।
এদিকে শুধু একটি রাজনৈতিক মিছিলে অংশ নেওয়ার অপরাধে এমন নির্মম পরিণতির শিকার হতে হওয়ায় স্তব্ধ হয়ে পড়েছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। ৭টি পরিবার আজ তাদের সন্তান, ভাই কিংবা প্রিয় স্বজনের জন্য দুশ্চিন্তা আর শোকে দিন কাটাচ্ছে। কারও ঘরে ফিরেছে প্রিয় মানুষের ক্ষতবিক্ষত লাশ, আর কারও ঘরে এখনও চলছে অন্তহীন ও উদ্বেগজনক অপেক্ষা। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে আশপাশের পরিবেশ।
এমন একটি বর্বরোচিত ও মর্মান্তিক ঘটনার পরও দেশের মূলধারার গণমাধ্যম এবং সুশীল সমাজের রহস্যজনক নীরবতা নিয়ে সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। মানবাধিকার ও রাজনৈতিক অধিকারের পক্ষে সোচ্চার থাকা সুশীল সমাজ কিংবা মিডিয়া—কারও পক্ষ থেকেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে এখনও জোরালো কোনো ভূমিকা বা নিন্দা লক্ষ্য করা যায়নি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং বাকি নিখোঁজদের উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। তবে এই ঘটনার পেছনে কারা জড়িত, তা নিয়ে এলাকায় চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।