হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published জুন ২৭, ২০২৬

ঐচ্ছিক তহবিল বিতরণে স্বজনপ্রীতির অভিযোগে বিতর্কে জামায়াতের এমপি, তালিকায় মেয়ের নাম দুইবার

By নড়াইল প্রতিনিধি | বেঙ্গল টাইমস, নড়াইল | ২৭ জুন ২০২৬

72f190dc-264d-4d86-8885-beb6167c2496

নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা আতাউর রহমান (বাচ্চু)-এর ঐচ্ছিক তহবিলের অনুদান বণ্টনকে কেন্দ্র করে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সরকারি অনুমোদিত একটি অনুদান তালিকায় সংসদ সদস্যের মেয়ের নাম দুইবার অন্তর্ভুক্ত থাকার দাবি ঘিরে জেলায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরের জন্য সংসদ সদস্যের ঐচ্ছিক তহবিল থেকে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা ২১ জন সুবিধাভোগীর মধ্যে বিতরণের অনুমোদন দেওয়া হয়। তালিকার প্রথম ও অষ্টম ক্রমিক নম্বরে ‘ফাইজা’ নামের একজনের নাম রয়েছে। দুটি ক্ষেত্রে অভিভাবকের নাম ভিন্নভাবে উল্লেখ করা হলেও স্থানীয়ভাবে দাবি করা হচ্ছে, উভয় নামই সংসদ সদস্যের একই মেয়েকে নির্দেশ করছে। প্রতিটি এন্ট্রিতে ১০ হাজার টাকা করে মোট ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেখানো হয়েছে।

এছাড়া তালিকা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, নড়াইল সদর উপজেলার জন্য নির্বাচিত অধিকাংশ সুবিধাভোগী সংসদ সদস্যের নিজ ইউনিয়নের বাসিন্দা। অপরদিকে লোহাগড়া উপজেলার তালিকাভুক্তদের একটি বড় অংশ তাঁর শ্বশুরবাড়ির এলাকার বলে স্থানীয়ভাবে দাবি করা হচ্ছে। এসব বিষয়কে কেন্দ্র করেই স্বজনপ্রীতির অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে।

শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সংসদ সদস্য আতাউর রহমান তালিকাটি সরকারি অনুমোদিত বলে স্বীকার করেন। তবে তিনি দাবি করেন, তালিকা প্রস্তুতের দায়িত্ব তাঁর ব্যক্তিগত সচিব (পিএস) পালন করেছিলেন এবং তিনি তখন নড়াইলে উপস্থিত ছিলেন না।

সংসদ সদস্যের ভাষ্য, সচিবালয়ে দ্রুত তালিকা পাঠানোর প্রয়োজন হওয়ায় তাঁর স্বাক্ষরযুক্ত প্যাড ব্যবহার করে পিএস পরিচিত ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করেন। তাঁর দাবি, পরিবারের সদস্যদের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়া ইচ্ছাকৃত ছিল না এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীদের তালিকা তিনি উপজেলা প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন।

তবে নড়াইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) টি এম রাহসিন কবির জানিয়েছেন, সচিবালয় থেকে অনুমোদিত তালিকা পরিবর্তনের সুযোগ স্থানীয় প্রশাসনের নেই।

সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, অনুমোদিত তালিকায় যাদের নাম রয়েছে কেবল তাদের কাছেই অনুদানের অর্থ বিতরণ করা যাবে।

কেউ অর্থ গ্রহণ না করলে তা সরকারি কোষাগারে ফেরত যাবে।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই সরকারি তহবিল বণ্টনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। এদিকে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিকভাবে কোনো অতিরিক্ত তদন্ত বা ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।