র্যাগিংয়ের অভিযোগে জাবির ইতিহাস বিভাগের ১২ শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কার
By জাবি প্রতিনিধি | বেঙ্গল টাইমস, প্রকাশ: ৫ জুলাই ২০২৬
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়: র্যাগিংয়ের অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ইতিহাস বিভাগের ৫৪তম ব্যাচের ১২ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
নবীন শিক্ষার্থীদের ‘ম্যানার শেখানোর’ নামে র্যাগিং করার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।শনিবার (৪ জুলাই) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে সাময়িক বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়।
অফিস আদেশে বলা হয়, গত ৩ জুলাই দিবাগত রাত ১১টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত ইতিহাস বিভাগের ৫৪তম ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থী ৫৫তম ব্যাচের নবীন শিক্ষার্থীদের র্যাগিং করেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের শৃঙ্খলা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ-২০১৮-এর ৫(ঙ) ধারা লঙ্ঘন করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে একই অধ্যাদেশের ৪(১)(খ) ধারা অনুযায়ী অভিযুক্তদের সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।
সাময়িক বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন— সুভাশীষ রায় প্রান্ত, নাছিম উদ্দিন মজুমদার, মো. আবু আবতাহী অনিক, নাঈমুল হাসান, আব্দুল্লাহ মাহদী, ইসফাক হাদী, মো. রায়হান খান, কাজী শাহ জামসেদ আলম নাবিল, সাইফুল্লাহ মানসুর আনান, মো. মাহফুজুর রহমান অন্ত, কার্তিক চন্দ্র রায় এবং নাঈম আহমেদ সজিব। তাঁরা সবাই ইতিহাস বিভাগের ৫৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ জুলাই গভীর রাতে ইতিহাস বিভাগের ৫৫তম ব্যাচের ১৩ জন নবীন শিক্ষার্থীকে ‘ম্যানার শেখানোর’ কথা বলে বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁদের র্যাগিং করা হচ্ছে— এমন অভিযোগ পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়।
অভিযানের সময় ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত ১২ শিক্ষার্থীকে আটক করে প্রক্টরিয়াল টিম। পরে ভুক্তভোগী নবীন শিক্ষার্থীরা প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্ত ও প্রক্টরিয়াল টিমের জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা লিখিতভাবে র্যাগিংয়ের ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে।
এসব তথ্যের ভিত্তিতেই তাঁদের বিরুদ্ধে সাময়িক বহিষ্কারের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন ও শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, ক্যাম্পাসে র্যাগিং, মানসিক বা শারীরিক নির্যাতন এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি যেকোনো ধরনের হয়রানির ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে।
নিরাপদ ও সহায়ক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযোগের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।