হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published জুলাই ৫, ২০২৬

খামেনির জানাজায় ৭০টির বেশি দেশের প্রতিনিধি, হরমুজ প্রণালিতে ‘বন্ধুরাষ্ট্রদের’ জন্য বিশেষ সুবিধার ইঙ্গিত ইরানের

By আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বেঙ্গল টাইমস, প্রকাশ: ৫ জুলাই ২০২৬

8818d65c-1469-426c-a232-9f3824eb64f3

তেহরান: ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শোক ও জানাজার আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেওয়ায় বিশ্বের ৭০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে তেহরান। 

একই সময়ে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে নতুন ‘সার্ভিস ফি’ আরোপের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে ইরান বলেছে, যেসব দেশ সংকটের সময়ে তাদের পাশে ছিল, তারা বিশেষ সুবিধা বা ছাড় পেতে পারে।ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, 

খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিশ্বের ৭০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিরা তেহরানে উপস্থিত হয়েছেন। তিনি এই অংশগ্রহণকে ইরানের কূটনৈতিক সম্পর্কের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয় ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন। 

আরাগচি বলেন, ইরানের বহু বন্ধুপ্রতিম ও প্রতিবেশী দেশ, বিশেষ করে আরব বিশ্বের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি দেশটির জনগণ ও সরকারের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ।

তিনি অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, এই সংহতি ভবিষ্যৎ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করতে ভূমিকা রাখবে।

এদিকে খামেনির শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিতে তেহরানে লাখো মানুষের সমাগম হয়েছে। ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক দিনব্যাপী শোকানুষ্ঠান ও জানাজার কর্মসূচিতে দেশ-বিদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নিচ্ছেন। 

অন্যদিকে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড পিস ফোরামে বক্তব্য দিতে গিয়ে চীনে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আবদুর রেজা রহমানি ফাজলি জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য একটি নতুন ‘সার্ভিস ফি’ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করছে ইরান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওমানের সঙ্গে সমন্বয়ের ভিত্তিতে এই ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, হরমুজ প্রণালির একটি অংশ ইরানের জলসীমার মধ্যে অবস্থিত। ফলে সেখানে নৌ-নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জাহাজ চলাচল তদারকি এবং পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য একটি সার্ভিস ফি আরোপের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এটি কোনো টোল বা

বাধ্যতামূলক কর নয়; বরং সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণের অংশ।

তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সংকটের সময়ে যেসব দেশ ইরানের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ অবস্থান নিয়েছে, নতুন ফি কার্যকর হলে তাদের জন্য বিশেষ ছাড় বা সুবিধা বিবেচনা করা হবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সম্ভাব্য এই পদক্ষেপের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে তেহরান জানিয়েছে, নিজেদের সামুদ্রিক স্বার্থ ও নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় তারা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অটল রয়েছে।

সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সমঝোতার আলোচনায় প্রথম ৬০ দিন বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে ফি ছাড়াই হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করার বিষয়টি উঠে এলেও, ওই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর কী ধরনের নীতিমালা কার্যকর হবে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। এ কারণে আন্তর্জাতিক শিপিং খাত ও জ্বালানি বাজারে বিষয়টি নিয়ে নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।