হরমুজ প্রণালিতে হামলা ইরানের, আটকে পড়া হাজারও নাবিক উদ্ধারের অভিযান স্থগিত
By আন্তর্জাতিক ডেস্ক , বেঙ্গল টাইমস
উদ্ধার অভিযান স্থগিতের নেপথ্যেযুক্তরাষ্ট্রের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সম্প্রতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তির পর আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও) পারস্য উপসাগরে আটকে থাকা প্রায় ১১ হাজার নাবিককে উদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু করেছিল।
কিন্তু বৃহস্পতিবারের এই হামলার পর নিরাপত্তা পুনর্মূল্যায়নের জন্য পুরো উদ্ধার কার্যক্রম থমকে গেছে।
যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে,
পণ্যবাহী একটি জাহাজের ডান দিকে অজ্ঞাত একটি ক্ষেপণাস্ত্র বা বস্তু আঘাত হেনেছে, যার ফলে জাহাজটির চালকের কক্ষ (ব্রিজ) মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে জাহাজের ক্যাপ্টেনের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, এই ঘটনায় কোনো হতাহত বা পরিবেশগত বিপর্যয়ের খবর পাওয়া যায়নি।
ইরান ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়াযুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই হামলাটি ইরানই চালিয়েছে। তবে ইরান এখন পর্যন্ত এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। উল্টো ইরানের পারস্য উপসাগরীয় সমুদ্রপথ ব্যবস্থাপনা সংস্থা একটি সতর্কতা জারি করে জানিয়েছে, তাদের নির্ধারিত রুটের বাইরে কোনো জাহাজ চলাচল করলে তার নিরাপত্তা, বিমা বা কোনো ক্ষয়ক্ষতির দায় ইরান নেবে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তারা স্পষ্ট করেছে, অননুমোদিত রুটে ভ্রমণের সব দায় জাহাজের মালিক, অপারেটর ও কমান্ডারের থাকবে।
আইএমও–এর মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গুয়েজ এক বিবৃতিতে বলেন:"আইএমওর উদ্ধার পরিকল্পনা শুরু হওয়ার পর ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি জাহাজ সফলভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
তবে আমাদের উদ্ধারের তালিকায় থাকা অন্যান্য জাহাজ এবং এই অঞ্চলে অবস্থানরত সবার জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা রয়েছে কি না, তা পুনর্মূল্যায়ন করতে আমি সাময়িকভাবে এ কার্যক্রম স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
নাবিকদের নিরাপত্তাই আমাদের কাছে সবার আগে।"কাকতালীয়ভাবে, যেদিন এই উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হলো, সেদিনই আন্তর্জাতিক 'নাবিক দিবস' উদযাপিত হচ্ছিল।
ভূরাজনৈতিক সংঘাতের জাঁতাকলে পড়ে হাজার হাজার নিরীহ নাবিকের এই আটকে পড়ার ঘটনা বিশ্বজুড়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি করেছে।
হুমকির মুখে শান্তি চুক্তি, এই হামলাটি এমন এক সংবেদনশীল সময়ে ঘটল, যখন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সাম্প্রতিক চুক্তিটি উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশের কাছে গ্রহণযোগ্য করার জন্য কূটনৈতিক সফরে রয়েছেন। গত সপ্তাহে হওয়া ১৪ দফার এই সমঝোতায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই হামলার ফলে সেই শান্তি চুক্তিও এখন বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়ল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।