পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে নতুন মাইলফলক: বিশ্বের প্রথম পারমাণবিক তাপভিত্তিক হাইড্রোজেন উৎপাদন কেন্দ্র চালু করল ভারত
By আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বেঙ্গল টাইমস,নয়াদিল্লি | ২৭ জুন ২০২৬
পরিচ্ছন্ন জ্বালানি প্রযুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জনের দাবি করে বিশ্বের প্রথম পারমাণবিক তাপভিত্তিক হাইড্রোজেন উৎপাদন কেন্দ্র চালু করেছে ভারত। দেশটির পারমাণবিক শক্তি বিভাগ (Department of Atomic Energy) জানিয়েছে, এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে বৃহৎ পরিসরে কার্বনমুক্ত হাইড্রোজেন উৎপাদনের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।
তামিলনাড়ুর কালপাক্কামে অবস্থিত ইন্দিরা গান্ধী সেন্টার ফর অ্যাটমিক রিসার্চ (IGCAR)-এ স্থাপিত এই পরীক্ষামূলক স্থাপনাটি পারমাণবিক চুল্লি থেকে উৎপন্ন তাপ ব্যবহার করে হাইড্রোজেন উৎপাদনের সক্ষমতা যাচাই করবে। এতে দেশীয়ভাবে উদ্ভাবিত কপার-ক্লোরিন (Cu-Cl) থার্মোকেমিক্যাল সাইকেল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা ভারতের ভাভা অ্যাটমিক রিসার্চ সেন্টার (BARC) উদ্ভাবন করেছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভারতের পারমাণবিক শক্তি বিভাগের সচিব ও অ্যাটমিক এনার্জি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. অজিত কুমার মহান্তি বলেন, পারমাণবিক শক্তির সঙ্গে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি প্রযুক্তির সমন্বয় ভবিষ্যতের টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার জন্য একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। তাঁর মতে, নিরবচ্ছিন্ন ও কার্বনমুক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম পারমাণবিক শক্তি বৃহৎ পরিসরে হাইড্রোজেন উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বজুড়ে উন্নয়নাধীন বিভিন্ন হাইড্রোজেন উৎপাদন প্রযুক্তির মধ্যে কপার-ক্লোরিন থার্মোকেমিক্যাল পদ্ধতিকে অন্যতম সম্ভাবনাময় প্রযুক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তুলনামূলকভাবে কম তাপমাত্রায় পরিচালিত হওয়ায় এটি অধিক দক্ষ এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করতে সক্ষম।
ভারতের পারমাণবিক শক্তি বিভাগ জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের গবেষণা, প্রকৌশল নকশা, যন্ত্রপাতি নির্মাণ, স্থাপন, পরীক্ষা ও কমিশনিংয়ের পর এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ প্রযুক্তিকে বাণিজ্যিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে আরও গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বব্যাপী পরিচ্ছন্ন শক্তির ব্যবহার বাড়ানোর প্রচেষ্টায় এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। শিল্প খাত, পরিবহন এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে কার্বন নিঃসরণ কমাতে হাইড্রোজেনকে ভবিষ্যতের অন্যতম প্রধান জ্বালানি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সফল হলে ভারতের এই প্রযুক্তি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে।