হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published জুলাই ২০, ২০২৬

আইজিসিসিতে ‘শ্রাবণ সন্ধ্যা’: বর্ষার আবহে রবীন্দ্রসংগীত ও শাস্ত্রীয় সংগীতের মূর্ছনায় মুগ্ধ দর্শক

By বেঙ্গল টাইমস ডেস্ক, ঢাকা | ২০ জুলাই ২০২৬

IMG_8371

বাংলাদেশ ও ভারতের দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে ঢাকায় অবস্থিত ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টার (আইজিসিসি) এক মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করেছে।

১৮ জুলাই রাজধানীর আইজিসিসি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় ‘শ্রাবণ সন্ধ্যা – এ মনসুন মিউজিক্যাল ইভনিং’, যেখানে বর্ষার আবহ, রবীন্দ্রসংগীত এবং হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সংগীতের সুরে মুখর হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ।

অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে বাংলাদেশে ভারতীয় সাংস্কৃতিক সম্পর্ক পরিষদ (ICCR)-এর সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টার (IGCC), ঢাকা। বর্ষা ঋতুর সৌন্দর্য, প্রকৃতির আবেগ এবং উপমহাদেশের সমৃদ্ধ সংগীত ঐতিহ্যকে এক মঞ্চে তুলে ধরাই ছিল এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

সন্ধ্যার সূচনা হয় প্রখ্যাত শিল্পী ড. চঞ্চল খান-এর হৃদয়স্পর্শী রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বর্ষা-প্রেরণায় রচিত গানগুলো শিল্পীর কণ্ঠে নতুন মাত্রা পায় এবং উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা গভীর আবেগে সেগুলো উপভোগ করেন।

এরপর মঞ্চে আসেন হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সংগীতের বিশিষ্ট শিল্পী গুরু অনিল কুমার সাহা এবং শ্রী অলোক কুমার সেন। তাঁদের সুরেলা পরিবেশনায় রাগভিত্তিক সংগীতের মধ্য দিয়ে বর্ষার চিরন্তন সৌন্দর্য ও প্রকৃতির বৈচিত্র্যময় রূপ ফুটে ওঠে।

ধ্রুপদী সংগীতের সূক্ষ্মতা, তাল-লয় এবং রাগের মাধুর্য উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে।অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সংগীতপ্রেমী, কূটনৈতিক মহলের প্রতিনিধিসহ বিপুলসংখ্যক অতিথি উপস্থিত ছিলেন। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে শিল্পীদের পরিবেশনা দর্শকদের কাছ থেকে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে। আয়োজকরা জানান, সংগীত মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সম্প্রীতির সেতুবন্ধন গড়ে তোলে।

সেই বিশ্বাস থেকেই আইজিসিসি নিয়মিতভাবে বাংলাদেশে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সংগীতানুষ্ঠান, নৃত্য, নাটক, শিল্প প্রদর্শনী এবং সাহিত্যভিত্তিক আয়োজন করে থাকে। ‘শ্রাবণ সন্ধ্যা’ সেই ধারাবাহিকতারই একটি বিশেষ আয়োজন, যা দুই দেশের সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।সাংস্কৃতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় কেবল শিল্প-সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করে না, বরং দুই দেশের মানুষের পারস্পরিক বন্ধুত্ব ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বর্ষাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই সংগীত সন্ধ্যা সেই ঐতিহ্যকেই নতুনভাবে তুলে ধরেছে।বর্ষার স্নিগ্ধ আবহ, রবীন্দ্রসংগীতের আবেগ এবং হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সংগীতের গভীরতা মিলিয়ে ‘শ্রাবণ সন্ধ্যা – এ মনসুন মিউজিক্যাল ইভনিং’ দর্শকদের জন্য এক স্মরণীয় সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়। আয়োজকদের আশা, ভবিষ্যতেও এ ধরনের আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক আয়োজন দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ আরও জোরদার করবে।