হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published মে ২৪, ২০২৬

আমি বাংলাদেশে ফিরে যাব: শেখ হাসিনাগণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চলবে।

By স্টাফ রিপোর্টার | ঢাকা, ২৫ মে ২০২৬ 

IMG_6228

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিতকরণ, মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা শুধু তাঁর দেশে ফেরার প্রশ্ন নয়, বরং দেশের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম দ্য পাইওনিয়ার-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ, অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা বক্তব্য তুলে ধরেন। 

সাক্ষাৎকারজুড়ে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, দেশের মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক “চিরন্তন” এবং যেকোনো পরিস্থিতিতেই তিনি জনগণের পাশে থাকবেন।

“আমি সময়সীমা নয়, গণতন্ত্রকে গুরুত্ব দিচ্ছি”

২০২৭ সালের মধ্যে বাংলাদেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন,

“আমি একে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ দেখতে চাই না। আসল বড় বিষয়টি হলো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং বাংলাদেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা।”

তিনি জানান, দেশের বাইরে অবস্থান করলেও তিনি জনগণের সঙ্গে মানসিকভাবে সম্পৃক্ত রয়েছেন এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে রাজনৈতিক ও আইনি সচেতনতা তৈরির কাজ চলছে।নিজের রাজনৈতিক জীবনে একাধিক হত্যাচেষ্টার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জনগণের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা থেকে তিনি কখনো সরে দাঁড়াবেন না।

“আওয়ামী লীগকে প্রশাসনিকভাবে মুছে ফেলা যাবে না”

আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য আইনি বাধা প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ কোনো প্রশাসনিক আদেশে গঠিত দল নয়; এটি দীর্ঘ গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক শক্তি।

তিনি বলেন,

“নিষেধাজ্ঞাগুলো আসলে শক্তির নয়, বরং ভয়ের প্রকাশ। রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত আওয়ামী লীগ এখনো দেশের প্রধান শক্তি।”

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, অতীতেও বিভিন্ন সময়ে দলটি নিষেধাজ্ঞা ও নিপীড়নের মুখোমুখি হয়েছে, কিন্তু জনগণের সমর্থনের কারণে টিকে থেকেছে।

দলীয় সংস্কার ও নেতাকর্মীদের অবস্থানদলের অভ্যন্তরীণ সংস্কার নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বড় রাজনৈতিক দলে সমালোচনা ও আত্মসমালোচনার সুযোগ থাকা প্রয়োজন। তবে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করতে “সংস্কার”-এর নামে অপচেষ্টাও নতুন কিছু নয়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে কারা দলের আদর্শে অনুগত থেকেছেন আর কারা সরে গেছেন—তা স্পষ্ট হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, এই অভিজ্ঞতা শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক শক্তিকে আরও দৃঢ় করবে।

২০২৪ সালের সহিংসতার পর বিদেশে অবস্থান নেওয়া নেতাকর্মীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে অনেকে সাময়িকভাবে দেশ ছেড়েছেন। তবে পরিবেশ স্বাভাবিক হলে সবাই আবার রাজনৈতিক কার্যক্রমে সক্রিয় হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।

অর্থনীতি ও স্বাস্থ্য খাত নিয়ে উদ্বেগদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা এবং সুশাসনের ঘাটতির কারণে সংকট তৈরি হয়েছে।

তিনি তাঁর সরকারের সময়কার বড় অবকাঠামো প্রকল্প—পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দরের কথা উল্লেখ করে বলেন, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ছাড়া অর্থনীতি পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়।

স্বাস্থ্য খাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, শিশুদের সংক্রামক রোগে মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। তাঁর সরকারের সময় টিকাদান কর্মসূচি ও কমিউনিটি ক্লিনিক আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।পররাষ্ট্রনীতি ও চরমপন্থা নিয়ে সতর্কবার্তাবর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর নীতি—“সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়”—উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক বাস্তবতার সঙ্গে জড়িত। একইসঙ্গে সব দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ ও গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

চরমপন্থা দমনে তাঁর সরকারের “জিরো টলারেন্স” নীতির কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এই অবস্থান দুর্বল হলে তা শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।“কখনোই আশা হারাবেন না”

সাক্ষাৎকারের শেষ অংশে দেশবাসীর উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন,

“কখনোই আশা হারাবেন না। বাংলাদেশ এর আগেও বহু বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছে। 

দেশের মানুষের ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।”

তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও 

বাংলাদেশে মানবাধিকার, 

সুশাসন ও রাজনৈতিক 

 বহুমাত্রিকতা রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।