বিদ্যুৎ সংযোগ চালু হতেই পুড়ল শত শত বাড়ির টিভি-ফ্রিজ, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী
By রাজশাহী প্রতিনিধি, বেঙ্গল টাইমস, রাজশাহী | ১৩ আগস্ট ২০২৬
রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার বাখরাবাজ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চালুর পর অতিরিক্ত ভোল্টেজের কারণে তিনটি মহল্লায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার পর মুহূর্তের মধ্যেই টেলিভিশন, ফ্রিজ, ফ্যানসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি বিকল হয়ে যায়। এতে প্রায় ৩০০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার গভীর রাতে। স্থানীয় সূত্র জানায়, বাখরাবাজ এলাকার একটি ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ওই এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। পরে নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো)-এর কর্মীরা সেখানে গিয়ে বিকল্প একটি ট্রান্সফরমারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেন।
রাত আনুমানিক ২টার দিকে সংযোগ চালু করার পরই মসজিদের সামনে থাকা একটি বৈদ্যুতিক বাল্ব বিকট শব্দে পুড়ে যায়। বিষয়টি বুঝতে পেরে নেসকোর কর্মীরা দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। তবে এর মধ্যেই বাখরাবাজ মোল্লাপাড়া, মধ্যপাড়া ও স্কুলপাড়া এলাকার বহু বাড়ির বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঘরে থাকা টিভি, ফ্রিজ, রাউটার, ফ্যান, চার্জারসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। পরে বিদ্যুৎ সরবরাহের ত্রুটির বিষয়টি বুঝতে পেরে ক্ষতিগ্রস্তরা রাস্তায় বেরিয়ে আসেন।
এ সময় ক্ষুব্ধ কয়েকজন বাসিন্দা নেসকোর কর্মীদের আটকে রাখেন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কয়েকজন কর্মীকে মারধরেরও অভিযোগ ওঠে।
পরে নেসকোর পক্ষ থেকে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে কাটাখালী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কর্মীদের উদ্ধার করে।
কাটাখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন কাদেরী বলেন, বিদ্যুৎ সরবরাহের সময় নেসকোর কর্মীদের ভুলের কারণেই অতিরিক্ত ভোল্টেজ সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। এর ফলে এলাকার অনেক বাড়ির ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি পুড়ে গেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী নেসকোর কর্মীদের আটকে রাখলেও পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।তবে অতিরিক্ত ভোল্টেজের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছে নেসকো।
রাজশাহীর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-৫-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, বিদ্যুৎ সরবরাহের তিনটি লাইনের মধ্যে কোনো কারণে দুটি লাইন এক হয়ে গেলে অত্যধিক ভোল্টেজ প্রবাহিত হতে পারে।
এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।তিনি বলেন, ত্রুটিটি গ্রাহকের সংযোগস্থল, স্থানীয় লাইন কিংবা মূল বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার কোনো অংশে হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণের দাবি উঠেছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে নেসকোর পক্ষ থেকে এখনো কোনো স্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করে প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।