হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published আগস্ট ৩০, ২০২৬

হিলি স্থলবন্দরে অনির্দিষ্টকালের জন্য পণ্য বাণিজ্য বন্ধের ঘোষণা, নেপথ্যে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ

By বেঙ্গল টাইমস ডেস্ক

IMG_9431

দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে ভারতের হিলি এক্সপোর্টার্স অ্যান্ড কাস্টমস ক্লিয়ারিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন।

রোববার (৩০ আগস্ট) থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।তবে পণ্য পরিবহন ও বাণিজ্য বন্ধ থাকলেও হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে বৈধ পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত স্বাভাবিক থাকবে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাংলাহিলি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহিনুর ইসলাম শাহিন মণ্ডল।

কেন হঠাৎ বাণিজ্য বন্ধ?

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হিলি স্থলবন্দরকে ঘিরে ভারতের ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের কিছু অসন্তোষ রয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য স্থলবন্দরের তুলনায় হিলি বন্দরের বাণিজ্যিক সক্ষমতা ও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তারা।

এ নিয়ে ভারতীয় এক্সপোর্টার ও আমদানি-রপ্তানিকারকদের কার্যনির্বাহী কমিটির যৌথ সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় হিলি বন্দরের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সমস্যা পর্যালোচনা করে বাণিজ্য কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ভারতের হিলি এক্সপোর্টার্স অ্যান্ড কাস্টমস ক্লিয়ারিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বিকাশ চন্দ্র মণ্ডল স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বাংলাদেশের হিলি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, ব্যবসায়ীদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে ৩০ আগস্ট থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য হিলি স্থলবন্দর দিয়ে দুই দেশের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকবে।

আলোচনা চলছে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে

বাংলাহিলি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর ইসলাম বলেন, ভারতের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক কিছু জটিলতার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন দাবি ও সমস্যাকে কেন্দ্র করেই ওপারের ব্যবসায়ীরা বাণিজ্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

দীর্ঘ সময় বাণিজ্য বন্ধ থাকলে শুধু আমদানি-রপ্তানিকারকরাই নয়, উভয় দেশের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট,

পরিবহন শ্রমিক, পণ্য খালাসে নিয়োজিত শ্রমিক এবং বন্দরনির্ভর অন্যান্য ব্যবসার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

তাই আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমস্যার সমাধান করে বাণিজ্য কার্যক্রম পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ইমিগ্রেশনে প্রভাব পড়ছে না

পণ্য আমদানি-রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্তের কারণে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে যাত্রী পারাপারে কোনো বাধা তৈরি হচ্ছে না।

হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বৈধ পাসপোর্ট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকা যাত্রীরা আগের মতোই বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে যাতায়াত করতে পারবেন।অর্থাৎ, চিকিৎসা, ব্যবসা, ভ্রমণ কিংবা অন্যান্য বৈধ প্রয়োজনে দুই দেশের নাগরিকদের যাতায়াত চালু থাকবে।

অনিশ্চয়তায় বন্দরকেন্দ্রিক অর্থনীতি

হিলি স্থলবন্দর বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থলপথ।

প্রতিদিন এ বন্দর দিয়ে বিভিন্ন ধরনের পণ্য দুই দেশের মধ্যে আসা-যাওয়া করে।

আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছেন আমদানিকারক, রপ্তানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, ট্রাকচালক, পরিবহন শ্রমিক, পণ্য ওঠানামার শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ।

ফলে অনির্দিষ্টকালের জন্য পণ্য বাণিজ্য বন্ধ থাকলে বন্দরকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে দ্রুত সিদ্ধান্তের পরিবর্তন না হলে পণ্য পরিবহন, সরবরাহব্যবস্থা ও স্থানীয় ব্যবসায় এর প্রভাব পড়তে পারে।

এখন দুই দেশের ব্যবসায়ী সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আলোচনার ওপরই নির্ভর করছে হিলি স্থলবন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম কত দ্রুত স্বাভাবিক হয়। দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা এড়াতে দ্রুত সমঝোতার প্রত্যাশা করছেন উভয় দেশের ব্যবসায়ী ও বন্দরসংশ্লিষ্টরা।