নেইমারদের কাঁদিয়ে ইতিহাস গড়ল নরওয়ে, হলান্ডের জোড়া গোলে শেষ ষোলো থেকেই বিদায় ব্রাজিল
By ক্রীড়া প্রতিবেদক, বেঙ্গল টাইমস, ঢাকা | ৬ জুলাই ২০২৬
বিশ্বকাপের মঞ্চে আরও একটি হৃদয়বিদারক অধ্যায় যোগ হলো ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে। নকআউট পর্বের প্রথম ম্যাচেই নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে হেক্সা মিশনের স্বপ্ন ভেঙে গেল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। আর এই ঐতিহাসিক জয়ের নায়ক ম্যানচেস্টার সিটির গোলমেশিন আর্লিং হলান্ড।
তাঁর দুর্দান্ত জোড়া গোলে প্রথমবারের মতো ব্রাজিলকে বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব থেকে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে নরওয়ে।ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই আবেগ ধরে রাখতে পারেননি ব্রাজিলের পোস্টার বয় নেইমার জুনিয়র। মাঠেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। গত কয়েকটি বিশ্বকাপের হতাশা পেছনে ফেলে এবার শিরোপা জয়ের যে স্বপ্ন তিনি দেখেছিলেন, সেটিও ভেঙে গেল নিষ্ঠুর বাস্তবতায়। সতীর্থ ভিনিসিয়ুস জুনিয়র তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলেও অশ্রু থামানো সম্ভব হয়নি। পুরো ম্যাচে ব্রাজিলের আক্রমণভাগে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন ভিনিসিয়ুস, তবে একার প্রচেষ্টায় দলকে রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
১৯৯০ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিতে হলো ব্রাজিলকে। দীর্ঘ ৩৬ বছর পর এত দ্রুত বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতা অর্জন করল লাতিন আমেরিকার ফুটবল পরাশক্তি।
হলান্ডের ঝলকে স্তব্ধ ব্রাজিল
শুরু থেকেই ব্রাজিল বলের দখল নিয়ে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে চাইলেও নরওয়ের সংগঠিত রক্ষণভাগের সামনে বারবার ব্যর্থ হয়। অন্যদিকে দ্রুতগতির প্রতি-আক্রমণে ব্রাজিলের ডিফেন্সকে চাপে রাখে নরওয়ে।
প্রথমার্ধেই আর্লিং হলান্ড নিখুঁত ফিনিশিংয়ে নরওয়েকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। গোল হজমের পর ব্রাজিল ম্যাচে ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের নেতৃত্বে একের পর এক আক্রমণ গড়ে তুললেও নরওয়ের রক্ষণ এবং গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় সমতায় ফেরা সম্ভব হয়নি।দ্বিতীয়ার্ধে আবারও আঘাত হানেন হলান্ড। ব্রাজিলের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের দ্বিতীয় গোলটি করে ব্যবধান ২-০ করেন তিনি। সেই গোলের পর কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে সেলেসাওরা।
ম্যাচের শেষদিকে ব্রাজিল একটি গোল শোধ করতে সক্ষম হলেও সেটি শুধুই ব্যবধান কমিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানের জয় নিয়ে ইতিহাস গড়ে মাঠ ছাড়ে নরওয়ে।
নেইমারের অশ্রু, ভিনিসিয়ুসের একাকী সংগ্রাম
এই পরাজয়ের মাধ্যমে আরও একবার বিশ্বকাপ স্বপ্নভঙ্গ হলো নেইমারের। ক্যারিয়ারের সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপে এমন বিদায় মেনে নেওয়া তাঁর জন্য ছিল অত্যন্ত কঠিন। ম্যাচ শেষে তাঁর কান্না যেন কোটি ব্রাজিল সমর্থকের হতাশার প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে।
অন্যদিকে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র পুরো ম্যাচে সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও প্রয়োজনীয় সমর্থন পাননি সতীর্থদের কাছ থেকে।
নেইমার-ভিনিসিয়ুস জুটির আক্রমণকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে দেন নরওয়ের রক্ষণভাগ এবং সর্বোপরি আর্লিং হলান্ডের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স।
নরওয়ের জন্য এই জয় শুধু কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার সাফল্য নয়; এটি বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের শক্ত অবস্থানের ঘোষণা।
আর ব্রাজিলের জন্য এই পরাজয় আত্মসমালোচনা, পুনর্গঠন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা।
দীর্ঘ ৩৬ বছর পর শেষ ষোলো থেকেই বিদায় তাদের ফুটবল ইতিহাসে আরেকটি
বেদনাদায়ক স্মৃতি হয়ে থাকবে।