ভারতের মরিচ আমদানির প্রভাবে কমতে শুরু করেছে দাম, তবুও সবজির বাজারে স্বস্তি নেই
By নিজস্ব প্রতিবেদক | বেঙ্গল টাইমস, ঢাকা | প্রকাশ: ৩ আগস্ট ২০২৬
ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানির খবর এবং বাজারে সরবরাহ বাড়তে শুরু করায় রাজধানীর খুচরা বাজারে কাঁচা মরিচের দাম কিছুটা কমেছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে অস্বাভাবিক উচ্চমূল্যে বিক্রি হওয়া এই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কেজিপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। তবে কাঁচা মরিচের বাজারে আংশিক স্বস্তি ফিরলেও সবজির বাজারে মূল্যবৃদ্ধির চাপ এখনো অব্যাহত রয়েছে। রাজধানীর অধিকাংশ বাজারেই বেশিরভাগ সবজি ১০০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) রাজধানীর কারওয়ান বাজার, শ্যামবাজার, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, মালিবাগ ও মিরপুরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, মান ও বাজারভেদে কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কয়েক দিন আগেও একই মরিচের দাম ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে ছিল। ফলে অল্প হলেও দাম কমায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে ক্রেতাদের মধ্যে।
আরও কমতে পারে মরিচের দাম
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, ভারত থেকে নতুন চালানের কাঁচা মরিচ নিয়মিত বাজারে প্রবেশ করলে আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই দাম আরও কমতে পারে। পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত হলে কাঁচা মরিচের দাম ১০০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে নেমে আসার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তারা।
কারওয়ান বাজারের এক বিক্রেতা বলেন, “দেশীয় উৎপাদন কমে যাওয়ায় কয়েক সপ্তাহ ধরে বাজারে মরিচের সংকট ছিল। এখন ভারতীয় মরিচ আসতে শুরু করেছে। সরবরাহ যত বাড়বে, দামও তত কমবে।”
সবজির বাজারে মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত
অন্যদিকে কাঁচা মরিচের দাম কমলেও অন্যান্য সবজির বাজারে এখনো স্বস্তি ফেরেনি। বাজারে প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়, বরবটি ১০০ থেকে ১২০ টাকা, করলা ১২০ টাকা এবং টমেটো ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া আরও বেশ কয়েকটি মৌসুমি সবজির দাম সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরে রয়েছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, টানা বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের বিভিন্ন কৃষি অঞ্চল থেকে সবজি সংগ্রহ ও পরিবহনে বিঘ্ন ঘটছে। এতে বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে। তবে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, শুধু আবহাওয়াই নয়, বাজার তদারকির দুর্বলতা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাও মূল্যবৃদ্ধির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ক্ষোভে ক্রেতারা
বাজারে কেনাকাটা করতে আসা অনেক ক্রেতা অভিযোগ করেন, বৃষ্টিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অযৌক্তিকভাবে সবজির দাম বাড়িয়ে রাখছেন। এতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের সংসার চালানো ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে।
একজন ক্রেতা বলেন, “মরিচের দাম কিছুটা কমেছে ঠিকই, কিন্তু অন্যান্য সবজির দাম এখনো অনেক বেশি। প্রতিদিন বাজারে এসে নতুন দামের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।”
বাজার তদারকি জোরদারের দাবি
ক্রেতাদের দাবি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে নিয়মিত নজরদারি বাড়াতে হবে এবং অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে জড়িত অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তাদের মতে, কার্যকর বাজার তদারকি এবং পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে নিত্যপণ্যের বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।অর্থনীতিবিদদের মতে, ভারত থেকে আমদানি সাময়িকভাবে কাঁচা মরিচের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেললেও দীর্ঘমেয়াদে কৃষিপণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি, আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা, দ্রুত পরিবহন এবং দক্ষ সরবরাহ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না হলে নিত্যপণ্যের দামের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা কঠিন হবে।