পিএইচডি স্কলারশিপে অনিয়ম: গোবিপ্রবির শিক্ষিকা ফাতেমা খাতুন স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত
By বেঙ্গল টাইমস ডেস্ক, ২৮ জুন ২০২৬ | গোপালগঞ্জ
পিএইচডি স্কলারশিপে অনিয়ম, সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন এবং নৈতিক স্খলনের অভিযোগে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফাতেমা খাতুনকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের (সাদা দল) একটি অংশের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
অভিযোগের সূত্রপাত
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ফাতেমা খাতুনের বিরুদ্ধে পিএইচডি স্কলারশিপ-সংক্রান্ত গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ফেলোশিপ ট্রাস্ট তাঁর স্কলারশিপের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন তোলার পর বিষয়টি আলোচনায় আসে।
অভিযোগ অনুযায়ী, শিক্ষা ছুটি শেষে দেশে ফিরে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করলেও তিনি পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের সুনির্দিষ্ট তারিখ, গবেষণাপত্রের ডিফেন্স সম্পন্ন হওয়ার বিষয়ে সুপারভাইজারের প্রত্যয়নপত্র এবং ফেলোশিপ ট্রাস্টের ছাড়পত্রসহ প্রয়োজনীয় কোনো নথি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দেননি।
এ বিষয়ে ব্যাখ্যা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একাধিকবার লিখিতভাবে যোগাযোগ করলেও তিনি সন্তোষজনক কোনো জবাব দেননি। পরে বিষয়টি তদন্তে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চপর্যায়ের সত্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়।
রিজেন্ট বোর্ডের সিদ্ধান্তগত ২৩ জুন অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩তম রিজেন্ট বোর্ড সভায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বোর্ডের সুপারিশ বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, তদন্তে সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগ
সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় রিজেন্ট বোর্ড সর্বসম্মতিক্রমে ফাতেমা খাতুনকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
অফিস আদেশবিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. এনামুজ্জামান স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে জানানো হয়েছে, রিজেন্ট বোর্ডের
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৩ জুন ২০২৬ থেকে ফাতেমা খাতুনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পদ থেকে স্থায়ীভাবে অপসারণ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে, বিধিবহির্ভূতভাবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি যে অর্থ গ্রহণ করেছেন, তা প্রচলিত বিধি অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।