হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published মে ৩০, ২০২৬

হরমুজে অচলাবস্থার শঙ্কা, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের লাল সতর্কতা।

By নিজস্ব প্রতিবেদক | বেঙ্গল টাইমস।

IMG_6459

আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক ও আইইএর যৌথ সতর্কবার্তা; তেল সরবরাহ ব্যাহত হলে বাড়তে পারে জ্বালানি, সার ও খাদ্যপণ্যের দাম

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংক এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)। সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলেছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না হলে বিশ্ব অর্থনীতি নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হতে পারে।

শুক্রবার (২৯ মে) প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো জানায়, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালীতে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার কারণে বৈশ্বিক তেলের মজুদ দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকালীন চাহিদা বৃদ্ধির সময় জ্বালানি বাজারে তীব্র চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করে। ফলে এই রুটে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা সৃষ্টি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে এবং অনেক দেশ জ্বালানি সরবরাহ সংকটে পড়তে পারে।

যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন শুধু তেলের বাজারেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর প্রভাব পড়বে কৃষি খাতেও। কারণ সার উৎপাদন ও পরিবহনের ব্যয় বেড়ে গেলে বৈশ্বিক খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হবে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন অঞ্চলে সারের দাম বাড়তে শুরু করেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কম আয়ের এবং আমদানিনির্ভর অর্থনীতিগুলো এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার যেসব দেশ উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল ও গ্যাস আমদানি করে, তাদের জন্য ঝুঁকি আরও বেশি।

জর্জিয়েভা সম্প্রতি সংস্থাটির এক বৈঠকে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তিনি জানান, সংকট মোকাবিলায় দুর্বল অর্থনীতির দেশগুলোর জন্য অতিরিক্ত ২০ থেকে ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে।

এদিকে আইএমএফ সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশও সম্ভাব্য আর্থিক সহায়তা নিয়ে সংস্থাটির সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতার প্রভাব মোকাবিলায় বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালীতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল দ্রুত পুনঃপ্রতিষ্ঠিত না হলে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে জ্বালানি, খাদ্য ও পরিবহন খাতে। একই সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে বহু দেশের অর্থনীতির ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

বিশ্ব অর্থনীতি যখন এখনও বিভিন্ন বৈশ্বিক সংকটের ধাক্কা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে, তখন মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি—সব ক্ষেত্রেই বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।