ফ্রান্সে শুরু G7 সম্মেলন ২০২৬: ইউক্রেন যুদ্ধ, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও ভূরাজনীতি আলোচনার কেন্দ্রে।
By আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বেঙ্গল টাইমস, প্যারিস | ১৫ জুন ২০২৬
বিশ্বের সাতটি শীর্ষ শিল্পোন্নত দেশের জোট জি-৭ (G7)-এর বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলন আজ ফ্রান্সে শুরু হয়েছে। বৈশ্বিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, ইউক্রেন যুদ্ধ, চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সমঝোতাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইস্যু এবারের সম্মেলনের আলোচ্যসূচিতে স্থান পেয়েছে।
ফ্রান্সের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, কানাডা এবং জাপানের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ কর্মকর্তারাও বৈঠকে অংশগ্রহণ করছেন। সম্মেলনকে ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে।
ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধ এবং এর বৈশ্বিক প্রভাব এবারের সম্মেলনের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয়। জি-৭ নেতারা ইউক্রেনের প্রতি তাদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখার বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী খাদ্য, জ্বালানি ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর যে চাপ সৃষ্টি হয়েছে, তা মোকাবিলার উপায় নিয়েও আলোচনা হবে।
বৈশ্বিক অর্থনীতির ধীরগতি, মূল্যস্ফীতি, বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা এবং প্রযুক্তি খাতে প্রতিযোগিতা নিয়েও নেতারা মতবিনিময় করবেন। আন্তর্জাতিক বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার জন্য সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
চীনের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব বৃদ্ধি এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিও সম্মেলনের আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। জি-৭ দেশগুলো বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল, প্রযুক্তি নিরাপত্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের ওপর নির্ভরতা কমানোর কৌশল নিয়ে আলোচনা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অর্জিত সমঝোতাও সম্মেলনের অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা হ্রাস এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় এই সমঝোতার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে নেতারা মতবিনিময় করবেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই বিষয়টি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
জলবায়ু পরিবর্তন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও পৃথক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে জি-৭ সম্মেলন শুধু অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক আলোচনার প্ল্যাটফর্ম নয়, বরং বিশ্বব্যবস্থার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সম্মেলনের সিদ্ধান্ত ও যৌথ ঘোষণা আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।