হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published মে ২৫, ২০২৬

কারাগারে অসুস্থ হয়ে সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট আব্দুল লতিফের মৃত্যু।

By স্টাফ রিপোর্টার

IMG_6243

ঢাকা: তিনটি হত্যা মামলায় জেলা কারাগারে বন্দি থাকা সাতক্ষীরা জজকোর্টের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ও আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট আব্দুল লতিফ মারা গেছেন। আজ সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৪টার দিকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। কারাগারের ভেতর হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছিল বলে কারা কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।

সাতক্ষীরা জেলা কারাগারের জেলার দুলাল কর্মকার ঘটনার বিবরণ দিয়ে বেঙ্গল টাইমসকে জানান, সোমবার রাত ৩টার দিকে কারাগারের অভ্যন্তরে হঠাৎ তীব্র অসুস্থতা অনুভব করেন আব্দুল লতিফ। তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে কারারক্ষীরা তাকে অবিলম্বে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৪টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আব্দুর রহমান জানান, রাত ৩টা ৩৫ মিনিটে জেল কর্তৃপক্ষ বুকে ব্যথা ও হৃদরোগের উপসর্গ নিয়ে আব্দুল লতিফকে হাসপাতালে ভর্তি করে। হাসপাতালে আনার পর তাকে প্রয়োজনীয় জরুরি চিকিৎসা প্রদান করা হলেও ভর্তির ২৫ মিনিটের মাথায় রাত ৪টায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রাজনৈতিক ও পেশাগত জীবন​অ্যাডভোকেট আব্দুল লতিফ সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কামার বায়সা গ্রামের মৃত মুনসুর সরদারের ছেলে। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাতক্ষীরা জেলা কমিটির উপদেষ্টা এবং বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এর আগে তিনি সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

আদালত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাতক্ষীরা-২ আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহম্মেদ রবির বিশেষ সুপারিশে আব্দুল লতিফ জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) নিযুক্ত হয়েছিলেন। 

তবে তার এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে তৎকালীন সময়ে সাধারণ আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং তার পদত্যাগের দাবিতে আদালতপাড়ায় লাগাতার কর্মসূচি ও আন্দোলন পালিত হয়েছিল। দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে আদালতপাড়া এককভাবে নিয়ন্ত্রণ, ভারতীয় গরুর খাটাল ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন খাত থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিকানার অভিযোগ উঠেছিল। তবে এই সমস্ত বিতর্ক থাকা সত্ত্বেও তার আকস্মিক মৃত্যুতে সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতিতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মামলা ও গ্রেপ্তার প্রসঙ্গ​উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সাবেক এই পিপির বিরুদ্ধে সাতক্ষীরায় মোট আটটি হত্যা ও নাশকতা মামলা দায়ের করা হয়। একই সাথে তার ছেলে রাসেলের বিরুদ্ধেও তিনটি মামলা রুজু হয়। মামলা দায়েরের পর গ্রেপ্তার এড়াতে বাবা ও ছেলে দীর্ঘদিন পার্শ্ববর্তী জেলা খুলনায় আত্মগোপনে ছিলেন।

নিহতের মেয়ে শাম্মি বেঙ্গল টাইমসকে জানান, আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর খুলনার বয়রা এলাকা থেকে পুলিশ তার বাবা আব্দুল লতিফ ও ভাই রাসেলকে যৌথ অভিযানের মাধ্যমে গ্রেপ্তার করে। 

এরপর থেকেই আব্দুল লতিফ তিনটি সুনির্দিষ্ট হত্যা মামলায় আদালতের নির্দেশনায় সাতক্ষীরা জেলা কারাগারে বন্দি জীবন যাপন করছিলেন।​পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া

সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুদুর রহমান বেঙ্গল টাইমসকে জানিয়েছেন, 

কারাগারের বন্দি অবস্থায় মৃত্যুর ঘটনা হওয়ায় আইনি প্রক্রিয়া মেনেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। 

একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের 

উপস্থিতিতে মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট সম্পন্ন করা হবে।

এরপর সদর হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্তের 

প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি আনুষ্ঠানিকভাবে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।