হোম রাজনীতি জাতীয় আন্তর্জাতিক সারাদেশ খেলাধুলা বিনোদন অর্থনীতি স্বাস্থ্য শিক্ষা চাকরি তথ্যপ্রযুক্তি আবহাওয়া মতামত
Bengal Times
Published আগস্ট ২৬, ২০২৬

নেপালে আকস্মিক বন্যা-ভূমিধস: নিখোঁজ প্রায় ৪০০ পর্যটক, অধিকাংশই বিদেশি

By বেঙ্গল টাইমস ডেস্ক, প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬

IMG_9287

নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দেশটির ট্যুরিজম বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগের পর প্রায় ৪০০ পর্যটকের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজদের বড় একটি অংশ বিদেশি নাগরিক।

একই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় হতাহত ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও বাড়ছে।বিবিসির প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, নিখোঁজ পর্যটকদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি নাগরিক। তাঁদের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয়।

আরও ১১১ জনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। অন্যদের মধ্যে নেপালের নাগরিক ছাড়াও যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের পর্যটক রয়েছেন।নেপাল পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত অন্তত ২২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় নিখোঁজ ও হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সীমান্তবর্তী এলাকায় দুর্যোগ

বুধবার ভোরে নেপালের রাসুওয়া জেলার চীন সীমান্তবর্তী কয়েকটি এলাকায় আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। প্রবল পানির স্রোতে গ্রাম, সড়ক ও বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় উদ্ধারকাজও কঠিন হয়ে উঠেছে।নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল পার্লামেন্টে জানিয়েছেন, সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে সকালে ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার পর তুষারধসের ঘটনা ঘটে।

এর পরপরই আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে তিব্বত অঞ্চলে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে।

দুর্যোগের মধ্যে নেপালের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও নিখোঁজ হয়েছেন। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, ২৬ জন পুলিশ, ৯ জন সশস্ত্র পুলিশ এবং ৪৪ জন সামরিক সদস্যের এখনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

তিব্বতেও নিখোঁজ বহু তীর্থযাত্রী

নেপালের পাশাপাশি চীনের তিব্বত অঞ্চল থেকেও গুরুতর পরিস্থিতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, নেপালের বন্যার প্রভাবে তিব্বতের গিরং বন্দর এলাকায় ব্যাপক হতাহত ও নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে দ্য কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৈলাস-মানসসরোবর ভ্রমণে যাওয়া প্রায় ৪০০ তীর্থযাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তবে তাঁদের মধ্যে কতজন হতাহত হয়েছেন, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সর্বাত্মক উদ্ধার অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ অবকাঠামোয় বড় ক্ষতি

বন্যার পানিতে নেপালের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটির বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জলবিদ্যুৎ ও সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রসহ প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ক্ষতির মুখে পড়েছে।

একই সঙ্গে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক বন্ধ হয়ে গেছে।নেপালের সেনাবাহিনী দুর্গত এলাকায় হেলিকপ্টার ও দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশিক্ষিত সদস্য পাঠিয়েছে।

নদীর তীব্র স্রোত ও ভূমিধসের কারণে অনেক এলাকায় স্থলপথে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ায় আকাশপথে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

জলবায়ু গবেষক ও কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রিজন ভক্ত কায়স্থের প্রাথমিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তুষারধসে লহেন্দে নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে পরে ভোতেকোশি নদীতে আকস্মিক পানির চাপ তৈরি হতে পারে। এর ফলেই ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নেপাল ও তিব্বতে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিখোঁজ পর্যটক, তীর্থযাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দুর্গত অঞ্চলে ভ্রমণকারীদের জন্য ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।